ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু: গত বছর ৭,৯০৪ জন নিহত বা নিখোঁজ
ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু: ৭,৯০৪ জন নিহত

ভূমধ্যসাগরে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের মৃত্যু: গত বছর ৭,৯০৪ জন নিহত বা নিখোঁজ

জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত বছর ইউরোপ অভিমুখী সমুদ্রপথে প্রায় ৭ হাজার ৯০৪ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। এই সংখ্যাটি আগের বছরের তুলনায় কিছুটা কমলেও, এটি এখনও একটি মারাত্মক মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে, ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথটি সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যেখানে প্রতি ১০টি মৃত্যু বা নিখোঁজের ঘটনার মধ্যে ৪টির বেশি ঘটেছে।

অদৃশ্য নৌযান ডুবে যাওয়ার ঘটনা

আইওএমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক অভিবাসনপ্রত্যাশী 'অদৃশ্য নৌযান ডুবে যাওয়ার' ঘটনায় হারিয়ে গেছেন। এই ঘটনাগুলোতে দেখা গেছে, অভিবাসনপ্রত্যাশীবোঝাই আস্ত নৌযান সমুদ্রে ডুবে গেছে কিংবা চিরতরে গায়েব হয়ে গেছে, পরে আর কখনোই খুঁজে পাওয়া যায়নি। আইওএমের মানবিক সহায়তা বিভাগের পরিচালক মারিয়া মোইতা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, 'এ পরিসংখ্যান এসব মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধে আমাদের সম্মিলিত ব্যর্থতার সাক্ষ্য বহন করছে।'

বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল বৃদ্ধি

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের আগমন সার্বিকভাবে কমলেও তাঁদের যাতায়াতের পথ ও উৎস দেশ বদলে গেছে। রাজনৈতিক ও নীতিগত পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল বেড়েছে, এবং বাংলাদেশিরা ইউরোপে সবচেয়ে বড় অভিবাসনপ্রত্যাশী হিসেবে উঠে এসেছেন। বিপরীতে, সিরিয়া থেকে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঢল কমে এসেছে। এই পরিবর্তনটি একটি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ প্রয়োজন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ও ক্ষতি

আইওএমের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে এসব পথে নিহত অভিবাসনপ্রত্যাশীর সংখ্যা সব মিলিয়ে ৮২ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইওএমের মহাপরিচালক অ্যামি পোপ বলেন, 'নানামুখী সংঘাত, জলবায়ুগত চাপ এবং নীতি পরিবর্তনের কারণে পথ হয়তো বদলে যাচ্ছে, কিন্তু ঝুঁকিগুলো এখনো খুবই বাস্তব। এসব সংখ্যার পেছনে রয়েছে বিপজ্জনক যাত্রায় বের হওয়া মানুষ এবং এমন সব পরিবার, যারা এমন খবরের অপেক্ষায় থাকে, যেটা হয়তো আর কখনোই আসবে না।'

এই প্রতিবেদনটি অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে, বিশেষ করে ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মানবিক সহায়তা ও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।