বিকাশে ডিপিএস জনপ্রিয়: ৬০ লাখের বেশি গ্রাহক, ৩৪% নারী অংশগ্রহণ
বিকাশে ডিপিএস জনপ্রিয়: ৬০ লাখ গ্রাহক, ৩৪% নারী

বিকাশে ডিপিএস সেবার ব্যাপক জনপ্রিয়তা: ৬০ লাখ গ্রাহক ও নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশগ্রহণ

বিকাশ কর্তৃপক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে তাদের ডিজিটাল ব্যাংকিং প্ল্যাটফর্মে ডিপিএস বা ডিপোজিট পেনশন স্কিমের অগ্রগতি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে যে, ইতিমধ্যে বিকাশে ৬০ লাখের বেশি গ্রাহক ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, যা মোবাইল ফিন্যান্স সেক্টরে একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

নারীদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক প্রবণতা

বিকাশের ডিপিএস গ্রাহকদের মধ্যে একটি বিশেষ দিক হলো নারীদের উচ্চ অংশগ্রহণ। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুসারে, মোট ডিপিএস গ্রাহকের ৩৪ শতাংশই নারী, যা আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক সংকেত দিচ্ছে। এই প্রবণতা বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে নারীদের সক্রিয় ভূমিকার প্রতিফলন ঘটাচ্ছে।

ডিপিএস সুদ হার ও মুনাফার বিশদ বিবরণ

বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহকরা বিভিন্ন মেয়াদে ডিপিএস স্কিমে বিনিয়োগ করতে পারছেন, যার সুদ হার আকর্ষণীয় পর্যায়ে রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, সাপ্তাহিক ২৫০ টাকার এক বছর মেয়াদি ডিপিএস খুললে সাড়ে ৮ শতাংশ থেকে ৯ দশমিক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত সুদ পাওয়া যাচ্ছে, যা ঐতিহ্যবাহী ব্যাংকিং পদ্ধতির তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উচ্চতর বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার পরিমাণ আরও বেশি লক্ষণীয়। সপ্তাহে ১ হাজার টাকার এক বছর মেয়াদি ডিপিএসে বিনিয়োগ করলে মেয়াদ শেষে প্রায় ৫৪ হাজার টাকা ফেরত পাওয়া যাবে, যা প্রাথমিক জমার তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। আরও বড় স্কেলে, সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা জমা দিলে বছর শেষে মুনাফাসহ মোট ২ লাখ ৭২ হাজার টাকা পাওয়া যাবে, যা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় পরিকল্পনায় একটি লাভজনক বিকল্প হিসেবে কাজ করতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ে পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা

বিকাশের ডিপিএস সেবার এই সাফল্য বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিং খাতের দ্রুত বিকাশেরই একটি অংশ। এটি দেখাচ্ছে যে, সাধারণ মানুষ এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সহজেই আর্থিক সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সুযোগ নিচ্ছেন, যা দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে নারীদের উচ্চ অংশগ্রহণ সামাজিক অর্থনৈতিক উন্নয়নে একটি নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিকাশের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর মাধ্যমে ডিপিএস ও অন্যান্য সঞ্চয় স্কিমের প্রসার হলে, দেশের মোট সঞ্চয় হার বৃদ্ধি পেতে পারে এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা শক্তিশালী হবে। ভবিষ্যতে আরও নানামুখী আর্থিক পণ্য ও সেবা চালু হলে, গ্রাহকদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধি পাবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতির ভিত্তি আরও মজবুত হবে।