ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) অবৈধ সীমান্ত পারাপারের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) ইইউতে অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের সংখ্যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কমেছে। শুক্রবার (১২ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ইইউর সীমান্ত ও কোস্ট গার্ড সংস্থা ফ্রন্টেক্স।
ফ্রন্টেক্সের তথ্য
সংস্থাটির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে প্রায় ৩৯ হাজার অনিয়মিত সীমান্ত পারাপারের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। ফ্রন্টেক্স বলছে, অংশীদার দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিবাসীদের যাত্রার প্রধান উৎসদেশগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে অবৈধ অভিবাসনে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে।
নতুন অভিবাসন চুক্তি
এদিকে, ইইউ নতুন ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড অ্যাসাইলাম প্যাক্ট’ কার্যকর করেছে। এর আওতায় ইইউ সীমান্তে অভিবাসীদের জন্য অভিন্ন ও মানসম্মত স্ক্রিনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ফ্রন্টেক্সের নির্বাহী পরিচালক হান্স লেইটেনস বলেন, নতুন নিয়মের ফলে ইইউ সীমান্তে সবার ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড মেনে চলা হবে। এই চুক্তি সদস্য দেশগুলোকে একই আইনের আওতায় নিয়ে আসবে।
অভিবাসন রুটের পরিবর্তন
সংস্থাটি জানিয়েছে, মধ্য ও পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় রুটগুলো এখনো সবচেয়ে ব্যস্ত অভিবাসন পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যদিকে, আফ্রিকান রুটে অভিবাসীর চলাচল সবচেয়ে বেশি কমেছে—এ রুটে অনিয়মিত পারাপার ৭১ শতাংশ কমে এসেছে। তবে পশ্চিম ভূমধ্যসাগরীয় রুটে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শতাংশ হিসেবে ৪৬ শতাংশ বেড়েছে।
প্রাণহানি
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বরাতে ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ভূমধ্যসাগরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।



