ব্রহ্মপুত্র ভাঙনে ৩০ মিনিটে ২৫ বসতভিটা নদীগর্ভে, নিঃস্ব ৫০ পরিবার
ব্রহ্মপুত্র ভাঙনে ৩০ মিনিটে ২৫ বসতভিটা নদীগর্ভে

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নে ব্রহ্মপুত্র নদের ক্রমাগত ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। সোমবার ভোরবেলা মাত্র আধঘণ্টার ব্যবধানে ২৫টি বাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। গত তিন দিনে অন্তত ৫০টি পরিবারের বসতঘর বিলীন হয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন নদীপাড়ের মানুষ।

ভাঙনের তীব্রতা ও ক্ষয়ক্ষতি

উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের বিশারপাড়া আশ্রয়ণ এলাকায় সোমবার ভোরবেলা ৩০ মিনিটে ২৫টি বাড়িসহ গত তিন দিনে অন্তত ৫০টি পরিবার বাড়িঘর হারিয়েছে। এছাড়াও বৈদ্যুতিক লাইনের ছয়টি খুঁটি এবং শত শত একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে মনতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঢুষমারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কড়াইবরিশাল বাজার, চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, নির্মাণাধীন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রসহ নানা স্থাপনা।

সরেজমিন পরিস্থিতি

সরেজমিন দেখা গেছে, ইউনিয়নটির শাখাহাতী, কড়াইবরিশাল, বিশারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় ভয়াবহ ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই নদী গিলে খাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটা। ইতোমধ্যে ৬টি বৈদ্যুতিক খুঁটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ায় প্রায় ৪০০ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে। ভাঙনের মুখে থাকা বাড়িঘর সরিয়ে নিতে দেখা গেছে ভুক্তভোগীদের। ওই এলাকার আতিকুর রহমান, আনসার আলী, আব্দুল হামিদ, বক্কর আলী, লাল মিয়া, শাহিন মিয়া, ফুলু মিয়া, মোনছোর মেম্বারসহ অনেকে ভিটেবাড়ি হারিয়ে খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য

বিশারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহিন মিয়া, তোফায়েল হোসেন ও মুকুল মিয়া বলেন, "ব্রহ্মপুত্র নদ আমাদের বসতবাড়ি কেড়ে নিয়েছে। সাজানো সংসার হারিয়ে ফেলেছি। লাখ লাখ টাকার সম্পদ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা এখন মানবেতর জীবনযাপন করছি। ত্রাণ চাই না, চাই নদীভাঙন থেকে স্থায়ী রক্ষা।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় সরকারের বক্তব্য

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, "গত দুই বছরে ইউনিয়নের প্রায় ৬৫০টি পরিবারের বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে যে হারে ভাঙন চলছে, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে ইউনিয়নের বড় একটি অংশ, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আশ্রয়কেন্দ্র ও কড়াইবরিশাল বাজার নদীতে চলে যাবে। ইতোমধ্যে শত শত একর আবাদি জমিও বিলীন হয়েছে।"

প্রশাসনের পদক্ষেপ

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, "ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এত ব্যাপক ভাঙন আসলে সামান্য কিছু দিয়ে রক্ষা করা কঠিন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।"

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, "চরাঞ্চলের এত দীর্ঘ ভাঙন নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৫শ জিও বস্তা দেওয়া হয়েছে; যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি নগণ্য। এজন্য ভাঙনের মুখে থাকা স্থাপনা গুলি সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।"