ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় দেশে নেওয়ার প্রস্তাব, পারমাণবিক স্থাপনা ভাঙতে অস্বীকৃতি
ইরানের ইউরেনিয়াম তৃতীয় দেশে নেওয়ার প্রস্তাব, স্থাপনা ভাঙতে অস্বীকৃতি

ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৃতীয় দেশে নেওয়ার প্রস্তাব

যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ইরান তাদের মজুত থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কিছু অংশ তৃতীয় একটি দেশে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তাব দিলেও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ভেঙে ফেলার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে বলে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

একের পর এক ঘটনা নড়বড়ে যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলছে। যুদ্ধের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তেহরানকে কিছু প্রস্তাব দিলেও তাতে রাজি হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনও ইরানিদের দিক থেকে আসেনি।

ট্রাম্পের প্রস্তাব ও ইরানের জবাব

ট্রাম্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে ইরানের অনুমতি নেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে এবং আগামী মাসে ওয়াশিংটন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেবে। জবাবে ইরান বলেছে, তারা তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের একাংশের ঘনত্ব কমিয়ে ফেলবে এবং বাকিটা তৃতীয় কোনো দেশে পাঠিয়ে দেবে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে সেসব ইউরেনিয়াম ফিরিয়ে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এর পাশাপাশি তেহরান তাদের পারমাণবিক স্থাপনা ভেঙে ফেলার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছে বলে বিষয়টি সম্বন্ধে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। তাদের বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, ইরানের কয়েক পৃষ্ঠার জবাবে আলোচকরা যুদ্ধের ইতি এবং ধীরে ধীরে হরমুজ খোলার প্রস্তাব দিয়েছেন। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যে দুই পক্ষ এখনও যোজন যোজন দূরে, ইরানের জবাবেই তা বোঝা যাচ্ছে, বলছে নিউইয়র্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাখ্যান

যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে তেহরানের নতুন প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে বলে একাধিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে। এদিকে ইরানি জবাব নিয়ে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের খবরকে ‘সত্য নয়’ আখ্যা দিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম। যদিও এ প্রসঙ্গে আর বিস্তারিত কিছু বলেনি তারা। বার্তা সংস্থাটি তাদের ভাষ্যে যুদ্ধের দ্রুত সমাপ্তি, তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, ওমান উপসাগরে মার্কিন অবরোধের ইতি ও হরমুজ প্রণালিতে ইরানি ব্যবস্থাপনার আকাঙ্ক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধের প্রভাব

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে, বিশ্বজুড়ে বেড়েছে জ্বালানি তেলের দামও। দুই পক্ষ যদি কোনো সমঝোতায় পৌঁছায়ও, তারপরও তেহরান ও ওয়াশিংটনকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কী করা হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় ঢুকতে হবে, যা নিয়ে এখন তাদের মধ্যে স্পষ্ট ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

ট্রাম্পের হুমকি

ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, যদি চুক্তি স্বাক্ষরিত না হয়, সবকিছু চূড়ান্ত না হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ‘ভিন্ন পথ’ নিতে পারে। এর মাধ্যমে তিনি হরমুজ প্রণালিতে ‘প্রজেক্ট ফ্রিডমের’ আওতা বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন বলেই বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন। হরমুজে ইরানের বিধিনিষেধ ডিঙিয়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পাহারায় নৌচলাচল শুরু করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এ ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ হাতে নিয়েছে।

এই হরমুজ প্রণালি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। যুদ্ধ শুরুর আগে এই সঙ্কীর্ণ প্রণালি দিয়েই বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস গন্তব্যে যেত।