ফ্রান্সে জুন মাসের ভয়াবহ তাপপ্রবাহে অন্তত ২,০০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পাবলিক হেলথ এজেন্সি। ২২ থেকে ২৮ জুনের মধ্যে ২,০২৫ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি। প্যারিস অঞ্চলে মৃত্যুহার বেড়েছে ৬২ শতাংশ।
ফ্রান্সে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ও দাবানল
২৪ জুন ফ্রান্সে সর্বকালের সর্বোচ্চ গড় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। প্যারিসের তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছায় এবং দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকায় সর্বোচ্চ লাল সতর্কতা জারি করা হয়। ফরাসি স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্টেফানি রিস্ট জানান, ৪৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।
এছাড়া তাপপ্রবাহের কারণে ডুবে মৃত্যুর ঘটনাও বেড়েছে। ফরাসি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ জানান, ১৮ জুন থেকে ৭২ জন ডুবে মারা গেছেন। ফ্রান্সের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা মেটিও-ফ্রান্স দক্ষিণাঞ্চলে শুক্র ও শনিবারের জন্য লাল দাবানল সতর্কতা জারি করেছে। প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, গ্রীষ্মকাল শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় ৭,০০০ দাবানল ঘটেছে, যা প্রায় ৮,৭০০ হেক্টর জমি পুড়িয়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সাঁত-মারি-লা-মের থেকে কানে-অঁ-রুসিইয়ন পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়া দাবানলের কারণে প্রায় ৩,০০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউরোপের অন্যান্য দেশেও প্রভাব
বেলজিয়ামে তাপপ্রবাহে ১,২২২ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৩৯ শতাংশ বেশি। মৃতদের প্রায় অর্ধেকের বয়স ৮৫ বছর বা তার বেশি। বেলজিয়ামের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মৃত্যুর এই মাত্রাকে অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করেছেন। নেদারল্যান্ডসে গত সপ্তাহের চরম তাপমাত্রায় প্রায় ৪৮০ জনের অতিরিক্ত মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশের বয়স ৮০ বছরের বেশি। দেশটির দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছিল।
স্পেন ও পর্তুগালও নতুন তাপপ্রবাহের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। পর্তুগাল মঙ্গলবার মধ্যরাত পর্যন্ত দেশব্যাপী সতর্কতা জারি করেছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে থাকবে। স্পেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তন তাপপ্রবাহকে আরও তীব্র করে তুলছে। কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের মতে, ইউরোপ অন্য যেকোনো মহাদেশের তুলনায় দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে, তাপমাত্রা বিশ্বব্যাপী গড়ের প্রায় দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। এই প্রবণতা আরও ঘন ঘন এবং তীব্র তাপপ্রবাহ সৃষ্টি করছে, জলসম্পদের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে এবং বিধ্বংসী দাবানলের পরিস্থিতি তৈরি করছে।
আটলান্টিকের অপর পাড়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ও পূর্বাঞ্চলে জুলাই চতুর্থ স্বাধীনতা দিবসের ছুটির সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ চরম তাপ ও উচ্চ আর্দ্রতার সম্মুখীন হচ্ছে।



