আসামে তৃতীয়বার বিজেপির জয়, ১০২ আসন পেয়ে নজির
আসামে তৃতীয়বার বিজেপির জয়, ১০২ আসন পেয়ে নজির

আসামে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় এল বিজেপি। ১২৬ আসনের বিধানসভায় মিত্রজোটসহ ১০২টি আসন পেয়ে এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে গেরুয়া শিবির। হিমন্ত বিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে বিজেপি এবার যে বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছে, তা গত এক দশকের মধ্যে রাজ্যে দলের সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থান। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস এ খবর জানিয়েছে।

বিজেপির উত্থান ও জোটের শক্তি

২০১৬ সালে বিজেপি এবং তার মিত্ররা ৮৬টি এবং ২০২১ সালে ৭৫টি আসন পেয়ে সরকার গঠন করেছিল। কিন্তু এক দশক ক্ষমতায় থাকার পরও এবার জনপ্রিয়তা কমার পরিবর্তে বিজেপি একাই ৮২টি আসন নিশ্চিত করেছে। সেই সঙ্গে মিত্র দল বিপিএফ ও এজিপি ১০টি করে আসন পাওয়ায় এনডিএ জোটের মোট আসন সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২।

হিমন্ত বিশ্ব শর্মার কৌশল

এই জয়কে কেবল বিজেপির নয়, হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ব্যক্তিগত সাফল্য হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল। প্রচারে ‘অবৈধ অভিবাসন’ ও ‘মিয়া মুসলিম’, এ ধরনের সংবেদনশীল ইস্যুকে হাতিয়ার করা হয়েছে। পাশাপাশি রাস্তা ও অবকাঠামো উন্নয়ন, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং নারীদের জন্য বিশেষ কল্যাণমূলক প্রকল্পের ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছে। বিশেষ করে হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ‘মামা’ ইমেজ এবং আক্রমণাত্মক অথচ জনহিতৈষী ভাবমূর্তি ভোটারদের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কংগ্রেসের বিপর্যয়

এ নির্বাচনে কংগ্রেসের চরম বিপর্যয় ঘটেছে। দলটি মাত্র ১৯টি আসনে নেমে এসেছে। দলের আসামের মুখ গৌরব গগৈ এবং বিদায়ী বিরোধী দলনেতা দেবব্রত শইকিয়ার মতো হেভিওয়েট নেতারা পরাজিত হয়েছেন। বিরোধী জোট মোট ২১টি আসন পেয়েছে, এর বাইরে রাইজর দল দুটি আসন জিতেছে। এআইইউডিএফ পেয়েছে মাত্র ২টি আসন, যা তাদের ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ ফলাফল। তৃণমূল কংগ্রেস মান্দিয়া আসনে জয়ী হয়েছে।

মেরুকরণের ইঙ্গিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, কংগ্রেসের জয় পাওয়া আসনগুলো ছাড়া বাকি কেন্দ্রগুলোতে সংখ্যালঘু ভোটারদের আধিক্য ছিল, যা রাজ্যে মেরুকরণের প্রতিফলন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হিমন্তের জয় ও বক্তব্য

নিজের জালুকবাড়ি কেন্দ্র থেকে ষষ্ঠবারের মতো ৮৯ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়েছেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। জয়ের পর তিনি বলেন, এই জয় উন্নয়ন, নারীশক্তির আরাধনা ও আত্মপরিচয়ের প্রতি সমর্থনের প্রতিফলন। বরাক থেকে ব্রহ্মপুত্র, উজান থেকে ভাটি—সর্বত্র সামগ্রিক উন্নয়ন ও স্বদেশি জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তাকে এই রায় আরও জোরালোভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।