ভারতের তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে অভিনেতা থেকে রাজনীতিবিদে রূপান্তরিত থালাপতি বিজয়ের দল 'তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম' (টিভিকে) ১০৭টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২৩৪ সদস্যের বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ১১৮ আসন, অর্থাৎ টিভিকের প্রয়োজন ছিল আর মাত্র ১১টি আসন। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সরকার গঠনের সম্ভাব্য পথ
একক বৃহত্তম দল হিসেবে টিভিকেকে রাজ্যপাল সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানাতে পারেন, এমনকি সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে শুরু হলেও। দলটি ইতিমধ্যে বাইরের সমর্থন সংগ্রহের ব্যাপারে আশাবাদী। বিশেষ করে ডিএমকে-নেতৃত্বাধীন জোটের কিছু দলের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ডিএমকে জোটের ভাঙনের ইঙ্গিত
ডিএমকে জোটে থাকা কংগ্রেস (৫ আসন), সিপিআই (২ আসন), সিপিআইএম (২ আসন) এবং ভিসিকে (২ আসন) টিভিকেকে সমর্থন দিতে পারে। ২০০৬ সালে ডিএমকে সংখ্যালঘু সরকার হিসেবে বাইরের সমর্থনে টিকে ছিল, যা একই ধরনের পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। কংগ্রেস নির্বাচনের আগে টিভিকের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা বিবেচনা করেছিল, যা জোটের মধ্যে টানাপোড়েনের প্রমাণ।
পিএমকে ও এআইএডিএমকের অবস্থান
টিভিকের জন্য আরেকটি সম্ভাব্য সমর্থক পাট্টালি মাক্কাল কাচ্চি (পিএমকে), যার পাঁচটি আসন রয়েছে। তবে অল ইন্ডিয়া আন্না দ্রাবিড় মুন্নেত্রা কাজাগাম (এআইএডিএমকে) বিজেপির সঙ্গে জোটবদ্ধ, যাকে বিজয় আদর্শগত প্রতিপক্ষ মনে করেন। ফলে এআইএডিএমকের সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা ক্ষীণ। গত কয়েক মাসের তিক্ততা ও ভেস্তে যাওয়া আলোচনা জোটের পথ প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালের শেষের দিকে এআইএডিএমকে ও টিভিকের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলেও বিজয়ের দলের কঠোর শর্তে তা ভেস্তে যায়। এখন টিভিকের সামনে সরকার গঠনের জন্য জোটের সমীকরণ সঠিকভাবে মেলানোই বড় চ্যালেঞ্জ। তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এই ত্রিশঙ্কু পরিস্থিতি কেমন মোড় নেয়, সেদিকে সবার নজর।



