চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় এক দশক ধরে বড় বড় প্রকল্প চললেও কালুরঘাট এলাকার নয়াখাল প্রকল্পের আওতায় আসেনি। ভরাট হয়ে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানিপ্রবাহ। গত মঙ্গলবার মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতেই নগরের গুরুত্বপূর্ণ ২০টি এলাকা পানির নিচে চলে যায়।
১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প, অসম্পূর্ণ পানি নিষ্কাশন
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে তিন সরকারি সংস্থার চারটি প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে খরচ হয়েছে ১০ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। লক্ষ্য ছিল বর্ষায় ডুবে যাওয়া শহরকে মুক্ত করা। কিন্তু বাস্তবে এখনো নগরবাসী দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) সবচেয়ে বড় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনী। কাগজে-কলমে অগ্রগতি প্রায় ৯০ শতাংশ হলেও পানির প্রবাহ ঠেকাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
৩৬ খালের তালিকায় নেই ৩৮ খাল
সিডিএর তথ্য অনুযায়ী, নগরে ছোট-বড় ৭৪টি খাল থাকলেও বড় প্রকল্পে নেওয়া হয়েছে মাত্র ৩৬টি। বাকি ৩৮টি খাল এখনো প্রকল্পের বাইরে। কালুরঘাটের নয়াখাল, ফরেস্ট খাল, কৃষ্ণখালি খাল ও কুয়াইশ খালের অবস্থা নাজুক। একসময় যেসব খাল দিয়ে জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল করত, সেগুলো এখন সরু নালায় পরিণত হয়েছে। পলি, আবর্জনা ও দখলের কারণে পানিপ্রবাহ প্রায় বন্ধ।
পরিকল্পনায় ত্রুটি ও সমন্বয়হীনতা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলাবদ্ধতার মতো জটিল সংকট সমাধানে বিস্তৃত মাঠ সমীক্ষা ও সমন্বিত মূল্যায়ন দরকার ছিল, যা যথাযথভাবে করা হয়নি। ১৯৯৫ সালের ড্রেনেজ মহাপরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব বাদ পড়েছে। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আলাদা প্রকল্প দিয়ে সমাধান সম্ভব নয়; এটি সমন্বিত নগর ব্যবস্থাপনার বিষয়।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে ক্ষোভ
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জলাবদ্ধতা পরিদর্শনে এসে বলেন, চট্টগ্রাম নগরী পানির ওপর ভাসছে না। তাঁর এই মন্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। নাগরিকদের ভাষ্য, দুদিন ধরে পানিতে ডুবে থাকা মোড়ে এসে তিনি বাস্তবতা উপলব্ধি করেননি।
সমন্বয় কমিটি গঠন
জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে সম্প্রতি ১৯ সদস্যের একটি সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে সরকার। কমিটির আহ্বায়ক সিটি করপোরেশনের মেয়র। কাজ হবে খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখা, প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করা এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা।



