চীনা বিজ্ঞানীরা ভারত মহাসাগরের তলদেশে তিমির বিশাল এক সমাধিক্ষেত্র খুঁজে পেয়েছেন, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন বলে দাবি করা হচ্ছে। নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, এই এলাকায় প্রায় ৫০০টি তিমির কঙ্কাল পাওয়া গেছে, যার মধ্যে কিছু জীবাশ্মের বয়স প্রায় ৫৩ লাখ বছর। সমাধিক্ষেত্রটি প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এবং কিছু জায়গা ৭ হাজার মিটার পর্যন্ত গভীর।
অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার
গবেষণার প্রধান লেখক ও চায়নিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের বিজ্ঞানী শিয়াওতং পেং বলেন, এই আবিষ্কার সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল। তিনি বলেন, 'তিমির এত বড় একটি সমাধিক্ষেত্র পাওয়াটা আমাদের কল্পনার বাইরে ছিল। এর বিস্তার, গভীরতা ও বয়সের পরিসর আমাদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি।'
গভীর সমুদ্রের বাস্তুতন্ত্র
গবেষকরা ছোট ডুবোযান 'ফেনদৌঝে' ব্যবহার করে ৩২টি ডাইভ চালিয়ে তিমির দেহাবশেষের ওপর বসবাসকারী নানা প্রাণী দেখতে পান। সেখানে জেলিফিশ, কৃমি, শামুক, ক্রাস্টেশিয়ান, ব্রিটল স্টার ও বাইভালভ মলাস্কসহ অসংখ্য প্রাণী মৃত তিমির দেহের ওপর নির্ভর করে বেঁচে আছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব প্রাণীর অনেকগুলোই নতুন প্রজাতির।
হোয়েল ফল ও কার্বন সঞ্চয়
তিমি মারা গেলে তাদের দেহ সমুদ্রের তলায় ডুবে যায়, যাকে 'হোয়েল ফল' বলা হয়। এই এলাকায় এক কোটির বেশি তিমির মৃতদেহ থাকতে পারে, যার চর্বি ও জৈব পদার্থ মিলিয়ে প্রায় ৬৭ লাখ টন কার্বন সমুদ্রের তলদেশে আটকে থাকতে পারে। গবেষকরা মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকা, আইবেরীয় উপদ্বীপ ও ক্রোজেট দ্বীপপুঞ্জের কাছেও এমন আরও সমাধিক্ষেত্র থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া
হাওয়াই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্রবিজ্ঞানী ক্রেইগ স্মিথ এই আবিষ্কারকে 'অত্যন্ত রোমাঞ্চকর' বলেছেন। ফ্লোরিডা স্টেট ইউনিভার্সিটির গবেষক অ্যামি বাকো-টেলর বলেন, এই 'অসাধারণ আবিষ্কার' থেকে অনেক নতুন তথ্য পাওয়া যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের জীবাশ্মবিদ স্টিফেন গডফ্রে এই আবিষ্কারের তুলনা করেছেন ১৯৭৭ সালে হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট আবিষ্কারের সঙ্গে এবং ভবিষ্যতে আরও চমকপ্রদ তথ্য পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।



