বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার বিকালে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
বিশ্ব অর্থনীতির পরিবর্তিত চিত্র
অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি এখন আর আগের অবস্থায় নেই। বিভিন্ন দেশ আগের অর্থনৈতিক ধারা থেকে সরে এসেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে শুরু করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত—প্রতিনিয়ত নতুন সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এসব কারণে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিকৃত হচ্ছে এবং পরিকল্পিত অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ-বিগ্রহ এখন নতুন বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর প্রভাব থেকে কোনও দেশই পুরোপুরি মুক্ত নয়। আমরা অতীত থেকে যে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি, বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে তা আরও জটিল হয়েছে।
বাজেট প্রণয়নের মূলনীতি
প্রস্তাবিত বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে সরকারের নীতি ও দর্শনের বিষয়েও কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি জানান, বাজেট তৈরির সময় ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’, অর্থনৈতিক গণতন্ত্র এবং নৈতিক ভিত্তির ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অপচয়নির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর ব্যয় ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যেই আগামী দিনের প্রকল্প ও ব্যয় অনুমোদনের ক্ষেত্রে চারটি মূল মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রকল্প মূল্যায়নের মানদণ্ড
প্রতিটি প্রকল্প মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ভ্যালু ফর মানি, রিটার্ন অন ইনভেস্টমেন্ট, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পরিবেশগত বিবেচনা— এই চারটি বিষয়কে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এসব মানদণ্ডের ভিত্তিতেই উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার ওপর জোর
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ বক্তৃতার চেয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়াকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দিতে চান। তিনি আরও বলেন, একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের প্রধান দায়িত্ব হলো জনগণের কাছে জবাবদিহি করা। সেই বিশ্বাস থেকেই সরকারের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত সময় রাখা হয়েছে।
বাজেট উপস্থাপনার সময় সাংবাদিকদের ধৈর্য ও আগ্রহের প্রশংসা করে তিনি বলেন, চার ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাজেট অধিবেশন চললেও উপস্থিত সবাই মনোযোগ দিয়ে তা অনুসরণ করেছেন। এটি গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য ইতিবাচক একটি লক্ষণ বলেও মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।



