তেল রাজস্ব বাড়লেও পশ্চিমা পরামর্শক চুক্তি স্থগিত সৌদির
তেল রাজস্ব বাড়লেও পশ্চিমা পরামর্শক চুক্তি স্থগিত সৌদির

আন্তর্জাতিক তেল রাজস্ব বৃদ্ধি পেলেও সৌদি আরব পশ্চিমা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন চুক্তি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে এবং কিছু চলমান প্রকল্পের অর্থপ্রদানও পিছিয়ে দিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্যা ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সৌদি সরকার দাবি করেছে, তারা কোনো ধরনের বিল পরিশোধ বন্ধ করেনি।

তেল রাজস্বে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি ফর স্ট্যাটিস্টিকসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চে দেশটির তেল রপ্তানি আয় দাঁড়ায় প্রায় ২৪.৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২২ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান–সংক্রান্ত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে একই সময়ে সৌদি আরব এখনো বাজেট ঘাটতির মুখে রয়েছে।

হরমুজ প্রণালি ও রপ্তানি পরিস্থিতি

পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে কার্যত উত্তেজনা ও অবরোধ পরিস্থিতির কারণে জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে সৌদি আরব তাদের বিকল্প পাইপলাইন ব্যবহার করে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। দেশটির ইস্ট–ওয়েস্ট পাইপলাইন লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে তেল পৌঁছে দিয়ে হরমুজ এড়িয়ে রপ্তানি নিশ্চিত করছে। বর্তমানে সৌদি আরব তার পূর্বযুদ্ধ রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘাটতি ও ব্যয় বৃদ্ধি

তেল আয়ের বৃদ্ধি সত্ত্বেও সৌদি সরকারের বাজেট ঘাটতি প্রথম প্রান্তিকে দাঁড়িয়েছে ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলারে। একই সময়ে সরকারি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। সামরিক ব্যয়ও ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, কারণ ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ আল জদ্দান জানিয়েছেন, অর্থনীতি সচল রাখতে সরকারকে ব্যয় বাড়াতে হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিশন ২০৩০ ও প্রকল্প সংকোচন

সৌদি আরব দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর বড় বাজার ছিল। বিশেষ করে ২০১৬ সালে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিল সালমান-এর ‘ভিশন ২০৩০’ ঘোষণার পর এসব প্রতিষ্ঠানের কাজ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়। ম্যাককিনসি এন্ড কোম্পানি এবং বোস্টন কন্সাল্টিং গ্রুপের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের মেগা প্রকল্প—বিশেষ করে নয়েম—পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এসব উচ্চ ব্যয়ের প্রকল্প অনেকটাই সংকুচিত বা বাতিল করা হচ্ছে। নয়েম প্রকল্পে কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের দাম বাড়লেও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আগ্রহ কমে যাওয়া এবং প্রকল্পগুলোর বিশাল ব্যয় সৌদি আরবকে পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করছে।

পশ্চিমা পরামর্শকদের ভূমিকা নিয়ে নতুন অবস্থান

প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব এখন খনি, প্রযুক্তি এবং এআই-ভিত্তিক প্রকল্পে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে পশ্চিমা পরামর্শকদের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে। অর্থাৎ, তেল রাজস্ব বৃদ্ধি সত্ত্বেও সৌদি আরব তার অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারে বড় পরিবর্তন আনছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বৈশ্বিক পরামর্শক সেবা খাতে।