আলবেনিয়ায় সাজান দ্বীপকে বিলাসবহুল পর্যটনকেন্দ্রে রূপান্তরের ট্রাম্প পরিবারের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে জনতা বিক্ষোভ করেছে। ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনার এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। স্থানীয়রা বলছেন, এই উন্নয়ন শুধু ধনীদের জন্য নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য হতে হবে।
প্রতিবাদের পটভূমি
আলবেনিয়ার সাজান দ্বীপে বিলাসবহুল সমুদ্রতট রিসোর্ট গড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ইভাঙ্কা ট্রাম্প ও জ্যারেড কুশনার। পাশাপাশি পিশে পোরো-নার্তা উপকূলীয় সংরক্ষিত বনভূমিতেও উন্নয়ন–পরিকল্পনা ছিল। অনেকের কাছে এটি ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত প্রস্তাবের কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে গাজাকে ধনী পর্যটকদের জন্য বিলাসবহুল সমুদ্রতট বানানোর কথা বলা হয়েছিল।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
আলবেনিয়ার মানুষ এই পরিকল্পনা মেনে নেয়নি। তাদের মতে, ধনীদের জন্য তৈরি পর্যটন প্রকল্প দেশের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং অভিশাপ। উন্নয়ন এমন হওয়া উচিত, যা সাধারণ মানুষের উপকারে আসে, কোনো একক শিল্পের শোষণের পথ খুলে দেয় না। স্থানীয় এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমরা চাই না আমাদের দেশ বিদেশি ধনীদের খেলার মাঠ হয়ে উঠুক।”
হাঙ্গেরির উদাহরণ
একই ধরণের প্রতিরোধ দেখা গেছে হাঙ্গেরিতেও। সম্প্রতি হাঙ্গেরির নির্বাচনে ভিক্তর অরবানকে হারিয়ে পেতের মাগিয়ার জয়ী হয়েছেন। মাগিয়ারের জয়ের পেছনে অনেক কারণ থাকলেও তিনি জাতীয় পরিচয়, দুর্নীতি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিষয়গুলোকে জোর দিয়ে সামনে এনেছিলেন। ট্রাম্প, যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, টাকার কার্লসনসহ ডানপন্থী মার্কিন নেতারা হাঙ্গেরিকে ব্যবহার করে ‘মাগা’ আন্দোলনকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাও ছিল স্পষ্ট। নির্বাচনের আগের দিন হাঙ্গেরির মানুষ ১৯৫৬ সালের সোভিয়েটবিরোধী আন্দোলনের পুরোনো স্লোগান আবার উচ্চারণ করে—‘রুশরা ফিরে যাও’।
ইতিহাসের প্রতীক
ছোট ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের রাজনৈতিক বৈধতার ভিত্তি হিসেবে যৌথ ইতিহাসকে সামনে আনছে। এই ইতিহাসই তাদের এমন এক শক্তি দিচ্ছে, যার সাহায্যে তারা বিদেশি জাতীয়তাবাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা বাণিজ্যিক, রাজনৈতিক ও সামরিক স্বার্থের মোকাবিলা করতে পারছে। উদাহরণস্বরূপ, লিথুয়ানিয়ার রাজধানী ভিলনিয়াসে আগামী মাসে ষোড়শ শতাব্দীর লিথুয়ানিয়ার গ্র্যান্ড ডাচির কিছু রাজমুকুট প্রদর্শিত হবে, যেগুলো সম্প্রতি আবার খুঁজে পাওয়া গেছে।
উপসংহার
দুর্নীতি ও বিদেশি প্রভাবের বিরুদ্ধে যে নতুন ধরনের গণ–আন্দোলন গড়ে উঠছে, তা আগের আক্রমণাত্মক জাতিগত জাতীয়তাবাদ থেকে আলাদা। হ্যারল্ড জেমস, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক, বলেন, “এই বাস্তবতায় মধ্যযুগীয় সেই আসল মুকুটগুলো (যেগুলোর এখনো রাজনৈতিক গুরুত্ব আছে) একটি সত্যিকারের প্রতীক হয়ে ওঠে। আর তার পাশে ট্রাম্পের ঝলমলে কিন্তু বাহুল্যপূর্ণ প্রতীকগুলো খুব একটা গুরুত্ব পায় না।”



