পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ধারদেনা করে লেবাননে গিয়েছিলেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম। কিন্তু দুই মাসের মাথায় বোমা হামলায় প্রাণ হারাতে হলো তাকে। সোমবার সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শুরু হয় শোকের মাতম।
শফিকুল ইসলামের পরিচয়
শফিকুল ইসলামের বাড়ি সাতক্ষীরার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামে। তিনি দিনমজুর আফসার আলীর ছেলে। নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। স্বজনদের সান্ত্বনা দিতে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরাও। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবারের দুর্দশা
নিহতের বাবা আফসার আলী বলেন, পরিবারে সুখ ফেরাতে এনজিও ও মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলেন। মাত্র দুই মাস আগে সে লেবাননে যায়। এখন ঋণের টাকা শোধ তো দূরের কথা, ছেলের লাশটা কীভাবে পাব তা জানি না। তিনি সরকারের কাছে ছেলের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা
জানা গেছে, শফিকুল ইসলাম ছিলেন বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে। পরিবারে রয়েছেন অসুস্থ মা আজেয়া খাতুন, স্ত্রী রুমা খাতুন ও দুই মেয়ে। বড় মেয়ে তামান্না আকতার মৌ স্থানীয় ভালুকা চাঁদপুর আদর্শ কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ছোট মেয়ে তন্বী আকতার বৃষ্টি বুধহাটা কাউছানিয়া মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বাবার মৃত্যুতে দুই মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবার।
নিহতের স্ত্রী রুমা খাতুন স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দুই মেয়ের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের জন্য সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন।



