কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় এক যুবলীগ নেতা হত্যা মামলার আসামি মো. আবদুল লতিফ ভূঁইয়াকে (৪৫) কুপিয়ে হত্যা করেছে উত্তেজিত জনতা। সোমবার (১১ মে) রাতে উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার বিবরণ
নিহত লতিফ ভূঁইয়া উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জহিরুল ইসলাম মোল্লা হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। তিনি একই উপজেলার মানিককান্দি গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাত সাড়ে নয়টার দিকে মানিককান্দি গ্রামে যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলামের জ্যাঠাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম মোল্লাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন লতিফ ভূঁইয়া। জাহাঙ্গীর আলম প্রাণে বেঁচে গেলেও গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন লতিফকে ধাওয়া করে ধরে ফেলেন। এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণপিটুনি দেয় এবং কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।
চিকিৎসা ও মৃত্যু
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লতিফ ভূঁইয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে। প্রথমে তাকে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে পুলিশ পাহারায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঢাকা নেওয়ার পথেই রাত পৌনে দুইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশের বক্তব্য
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, 'নিহত লতিফ ভূঁইয়ার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে রাখা হয়েছে।'
পূর্বের ঘটনা
২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর মৎস্য প্রকল্পে আধিপত্য বিস্তার ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জেরে যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে হত্যা করা হয়েছিল। লতিফ ভূঁইয়া ওই মামলার অন্যতম আসামি ছিলেন। পাঁচ মাস কারাবাস শেষে সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। জামিনে আসার পর পুনরায় হামলা চালাতে গিয়ে তিনি স্থানীয়দের হাতে আটক ও হামলার শিকার হন।



