হামের টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ শুরু: ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশনে ১২ লাখ শিশুকে লক্ষ্য
দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। এই ধাপে রাজধানী ঢাকাসহ চারটি সিটি করপোরেশন এলাকায় ১২ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি বাদে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম, যা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য
রবিবার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে ‘জরুরি হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬’ এর উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, পিছিয়ে থাকা এলাকার শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। তিনি সংবাদকর্মীদেরও এই কর্মসূচির বার্তা ছড়িয়ে দিতে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান, যাতে সর্বস্তরের মানুষ সচেতন হতে পারে।
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এটি একটি জরুরি উদ্যোগ এবং সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে স্থায়ী কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রও স্থাপন করা হয়েছে, যা টিকা প্রাপ্তি সহজতর করবে।
অভিভাবকদের সচেতনতা ও হার্ড ইমিউনিটির গুরুত্ব
সন্তানের টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় না আনলে রোগের প্রাদুর্ভাব কমানো সম্ভব নয়। তিনি একই সঙ্গে হার্ড ইমিউনিটি অর্জনের গুরুত্বও তুলে ধরেন, যা সম্প্রদায়ের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। এই উদ্যোগটি শিশু স্বাস্থ্য রক্ষায় একটি টেকসই পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কার্যক্রমের বিস্তারিত ও সময়সীমা
এই টিকাদান কর্মসূচি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হয়ে চলবে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত। কর্মসূচির আওতায় নিম্নলিখিত বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে:
- প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত টিকাদান কার্যক্রম চলবে, সাপ্তাহিক ছুটি বাদে।
- স্থায়ী ও অস্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে টিকা প্রদান করা হবে, যাতে দূরবর্তী এলাকার শিশুরাও সুবিধা পায়।
- ১২ লাখের বেশি শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই উদ্যোগটি সরকারের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন ও শিশু মৃত্যুহার কমানোর প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে এবং ভবিষ্যতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করবে।



