সীতাকুণ্ডে চার পর্যটককে উদ্ধার, সৈকতে লাল পতাকা
সীতাকুণ্ডে চার পর্যটক উদ্ধার, সৈকতে লাল পতাকা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতে আবারও গোসলে নেমে ভেসে যাচ্ছিলেন চার পর্যটক। বিষয়টি দেখতে পেয়ে সেখানে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশের দুই সদস্য একটি লাইফবোট নিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। ঘটনাটি গত সোমবার দুপুর ১২টার দিকে ঘটলেও সেটি বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। তবে ডুবতে থাকা পর্যটকদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। তাদের উদ্ধারের পর নিজ নিজ গন্তব্যে চলে গেছেন বলে জানা গেছে।

উদ্ধারকারী গ্রাম পুলিশের বর্ণনা

চার পর্যটককে উদ্ধারকারী গ্রাম পুলিশ সদস্যদের একজন নুরুল আমিন বলেন, ‘সোমবার আমরা পাঁচ গ্রাম পুলিশ সদস্য সৈকতে দায়িত্ব পালন করছিলাম। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সৈকতে জোয়ার আসে। এ সময় প্রচুর পর্যটক সাগরে গোসলে নামেন। হঠাৎ দেখতে পাই, চার পর্যটক একটা নির্দিষ্ট দূরত্বের বাইরে সাঁতার কাটতে কাটতে চলে যান। আমরা বুঝতে পারি, তারা আর ফিরে আসতে পারবেন না। কারণ, বড় বড় ঢেউ হচ্ছিল। আবার তারাও ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে আমি ও আমার সহকর্মী সফর আলী মিলে সৈকতে থাকা একটি লাইফবোটের চালককে জোগাড় করে তাদের উদ্ধার করি। নৌকায় তোলার পর ক্লান্ত হয়ে তারা শুয়ে পড়েন। হয়তো আর কিছুক্ষণ থাকলে তারা পানিতে ডুবে যেতেন।’

পর্যটকদের সতর্কবার্তা না শোনার প্রবণতা

নুরুল আমিন আরও বলেন, ‘আমরা ওই এলাকার বাসিন্দা। আমরা বুঝতে পারি, কতটুকু গেলে একজন পর্যটক বিপজ্জনক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারেন। ১০-১২ দিন ধরে সেখানে দায়িত্ব পালন করছি। এ সময় দেখছি, পর্যটকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের কথাবার্তা শুনতে চান না। তারা নিজেদের খেয়ালখুশিমতো সাঁতার কাটেন। এতেই বিপত্তি ঘটে। আমরা ইউনিফর্ম পরে তাদের সতর্ক করছি। তবু তারা শুনতে চান না। পরে বাঁশি বাজিয়ে কিংবা চাপ প্রয়োগ করে হোক তাদের তুলতে হয়। মূলত সতর্ক বার্তা না শোনায় এসব দুর্ঘটনা ঘটছে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

ভিডিওটি দেখে এ নিয়ে ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অনেকে। এ ঘটনার জন্য অনেকেই পর্যটকদের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করাকে দায়ী করেছেন। আবার অনেকে পর্যটন এলাকায় ট্যুরিস্ট পুলিশ কিংবা নিরাপত্তা দেখভালের জন্য সরকারি কোনও লোকজন না থাকার বিষয় উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিপদসীমায় লাল পতাকা

চার পর্যটক উদ্ধারের ঘটনার পর গুলিয়াখালী সমুদ্রসৈকতকে বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে লাল পতাকা টাঙানো হয়েছে। সোমবার চার পর্যটক ভেসে যাওয়ার ঘটনার কথা জানিয়ে গ্রাম পুলিশ সদস্যরা বিপজ্জনক এলাকা চিহ্নিত করে প্রশাসনকে লাল পতাকা টাঙানোর প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গ্রহণ করে সেখানে লাল পতাকা লাগানোর নির্দেশ দেন। পরে গ্রাম পুলিশের সদস্যরা সেখানে লাল পতাকা টাঙিয়ে দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন গাছে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দেওয়া হয়। সাইনবোর্ডে লেখা হয়, ‘সতর্কবার্তা! লাল পতাকার বাইরে খুব ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ লাল পতাকার বাইরে যাবেন না। নির্দেশক্রমে—উপজেলা প্রশাসন।’

প্রশাসনের নির্দেশনা

এ বিষয়ে গ্রাম পুলিশ সদস্য নুরুল আমিন জানান, তারা নির্দিষ্ট বিপদসীমার মাথায় লাল পতাকা দিয়ে সতর্ক করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সচিবকে প্রস্তাব দেন। সচিব বিষয়টি দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে ইউএনও ও বিচ পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে জানান। এরপর ইউএনও দ্রুত সেখানে লাল পতাকা টাঙানোর নির্দেশ দেন। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে সেখানে লাল পতাকা টাঙানো হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘চার পর্যটক ভেসে যাওয়ার খবর পেয়ে দ্রুত নিরাপদ দূরত্বে লাল পতাকা টাঙানো ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড লাগানোর নির্দেশ দিই। পর্যটকদের সাগরে নামার ক্ষেত্রে গ্রাম পুলিশকে আরও সতর্ক থাকতেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

পূর্ববর্তী ঘটনা

এর আগে গত ২৩ মে বিকালে সাগরের সেই একই স্থলে গোসল করতে নেমে মুহাম্মদ রিফাত হোসেন (১৮) নামের এক তরুণ নিখোঁজ হন। ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা রাত ৯টা পর্যন্ত রিফাতকে উদ্ধারে চেষ্টা করেন। নিখোঁজের প্রায় ১৬ ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলের কাছেই উপকূল থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।