ঈদের ছুটিতে হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় ১৮টি নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। মঙ্গলবার (১৯ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসানের সই করা আদেশে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
জরুরি বিভাগ ও সেবা চালু রাখা
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জরুরি বিভাগে প্রয়োজনমতো অতিরিক্ত চিকিৎসক পদায়নপূর্বক সার্বক্ষণিক চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। জরুরি বিভাগ ও লেবার রুম, ইমার্জেন্সি ওটি, ল্যাব, সিটি স্ক্যান, এমআরআই সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। কর্মস্থলে পর্যাপ্ত জনবল ও চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য ঈদের আগে ও পরে সমন্বয় করে জনবলকে পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়া যেতে পারে।
ছুটি মঞ্জুর ও জনবল সমন্বয়
প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিরবচ্ছিন্ন জরুরি চিকিৎসা কার্যক্রম ও জনস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে ছুটি মঞ্জুর করবেন। সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালক-কে অবহিত করে শুধু ঈদের ছুটিকালীন সময়ে নিজ নিজ জেলার অতি প্রয়োজনীয় জনবল সমন্বয় করতে পারবেন।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা
হাসপাতালের অন্তঃবিভাগ ইউনিট প্রধানগণ প্রতিদিন তাদের বিভাগীয় কার্যক্রম তদারকি করবেন। মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসমূহে জরুরি ল্যাব, এক্স-রে সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। উপজেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের অনকল সেবা চালু রাখতে হবে।
বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড এবং হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিশ্চিত করতে হবে। ছুটির দিনসহ প্রতিদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সকাল-বিকাল দুই বেলা রাউন্ড দেবেন।
ওষুধ ও সরঞ্জাম মজুত
ছুটি শুরু হবার পূর্বেই ছুটিকালীন সময়ের জন্য পর্যাপ্ত ঔষধ, আইভি ফ্লুইড, কেমিক্যাল রি-এজেন্ট, সার্জিক্যাল সামগ্রী মজুত ও তৎক্ষণিকভাবে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখতে হবে। এক্ষেত্রে স্টোর কিপার অথবা ছুটিকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফ অবশ্যই নিজ জেলা ও উপজেলায় অবস্থান করবেন।
অ্যাম্বুলেন্স ও নিরাপত্তা
অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সার্বক্ষণিক চালু রাখতে হবে। ছুটিকালীন সময় হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে আগাম পত্র দিতে হবে। ছুটিকালীন সময়ে সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অগ্নি নির্বাপণ বিষয়ক সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
যোগাযোগ ও দায়িত্ব হস্তান্তর
প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও বিভিন্ন বিভাগের প্রধানগণ ছুটিকালীন সেবা প্রদানকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ করবেন এবং ছুটির দিন কুশল বিনিময় করবেন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছুটি নিলে অবশ্যই বিধি মোতাবেক কাউকে দায়িত্ব দিয়ে যাবেন এবং দায়িত্বগ্রহণকারী কর্মকর্তা যথাযথ দায়িত্ব সুচারুভাবে পালন করবেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির মোবাইল নম্বর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত রাখতে হবে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান ছুটি দিন রোগীদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন তদারকি করবেন এবং রোগীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
বহিঃবিভাগ ও বেসরকারি হাসপাতাল
বহিঃবিভাগ একাধারে ৭২ ঘণ্টার অধিক বন্ধ রাখা যাবে না। এক্ষেত্রে ২৬ মে, ৩০ মে প্রতিষ্ঠান চালু রাখা যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন।
সকল বেসরকারি ক্লিনিক বা হাসপাতালে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের অধীনে সার্বক্ষণিক জরুরি ও প্রসূতি বিভাগ, হাম ওয়ার্ড খোলা রাখবে। কোনও রোগী রেফার করার আগে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা এবং যাত্রাপথের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। রেফার্ড রোগীদের ক্ষেত্রে অ্যাম্বুলেন্স প্রাপ্তির প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করতে হবে। উন্নত ব্যবস্থার প্রত্যোজন ছাড়া রোগী রেফার করার প্রবণতা যথাসম্ভব পরিহার করতে হবে।
পশুর হাট ও দুর্যোগ প্রস্তুতি
পশুর হাটের নিকটবর্তী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে। যেকোনও দুর্যোগ, অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুমকে তাৎক্ষণিকভাবে অবহিত করতে হবে।



