হামের প্রাদুর্ভাব: ডেটা টেম্পারিং ও অপুষ্টি বড় কারণ, বললেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী
হামের প্রাদুর্ভাবে ডেটা টেম্পারিং ও অপুষ্টি বড় কারণ

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেছেন, হাম রুবেলা ভ্যাকসিন ক্যাম্পেইন প্রতি চার বছর পর পর অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ ক্যাম্পেইনটি ২০২০ সালের ডিসেম্বর ও ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কোভিডকালীন সময়ে হয়েছিল। কিন্তু তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় সরকার ডেটা টেম্পারিংয়ে সিদ্ধহস্ত ছিল এবং হামের কাভারেজের ডেটা সঠিক নয়। ফলে প্রকৃত কাভারেজ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি।

টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়ার প্রভাব

ড. হায়দার জানান, অসম্পূর্ণ কাভারেজের চার বছর পর ২০২৪-২৫ সালে আরেকটি টিকা রাউন্ড হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের দুর্বলতা ও অদক্ষতার কারণে সেই ক্যাম্পেইন একেবারেই হয়নি, যার ফলে বর্তমানে দেশ একটি ডিজাস্টারের মধ্যে পড়েছে। বুধবার (১৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বিশ্ব প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের অবস্থা

তিনি আরও বলেন, কোভিডের পর বিশ্বের ৫৩টি দেশে গড়ে ১৮ শতাংশ হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। বাংলাদেশেও কিছুটা বৃদ্ধি স্বাভাবিক, তবে বর্তমান ভোগান্তির মূল কারণ হলো টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়া।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অপুষ্টি ও ভিটামিনের ঘাটতি

ড. হায়দার শিশুদের অপুষ্টিকে হামের আরেকটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। তিনি বলেন, সাধারণত ছয় মাস পর্যন্ত হামের ভ্যাকসিনের প্রয়োজন হয় না, কারণ মায়ের বুকের দুধ থেকে শিশু পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি ও ভিটামিন পায়। তবে বাংলাদেশের শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে, বিশেষ করে ভিটামিন এ-এর ঘাটতি রয়েছে। ২০২৪ সালে টিকা ক্যাম্পেইন না হওয়ার মতো একই কারণে ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনও ঠিকমতো হয়নি। ফলে অনেক শিশু ভিটামিন এ ক্যাপসুল পায়নি। এছাড়া দেশে ১২ শতাংশ শিশুর ওজন উচ্চতার তুলনায় বেশি (ওভারওয়েট), যা মৃত্যুর হার বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাস্থ্য খাতে অর্থ সংকট

এক প্রশ্নের জবাবে বিশেষ সহকারী বলেন, হামে আক্রান্ত শিশুদের সবাইকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হয়েছে। তবে টিকা ক্যাম্পেইন চালানো না যাওয়ার পেছনে অর্থ সংকট দায়ী। তিনি অভিযোগ করেন, গত সরকার স্বাস্থ্য খাতের তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম করেছে। ওপি (অপারেশনাল প্ল্যান) থেকে ডিপিপি (ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজাল)-তে স্থানান্তরের কারণে ওপির মাধ্যমে টাকা আসা বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন ডিপিপি তৈরি, প্রকল্প পাস ও একনেক অনুমোদনের সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া আমলে না নিয়ে দ্রুত স্থানান্তর করার ফলে পুরো সেক্টরে শুধু ভিটামিন ‘এ’ নয়, কন্ট্রাসেপটিভ পণ্যও স্টক আউট হয়েছে। বর্তমান সরকার অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে এসব সংকট মোকাবিলায় অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে।