‘বার্নআউট’ শব্দটি সাধারণত করপোরেট চাকরিজীবীদের সঙ্গেই বেশি সম্পর্কিত। কাজের চাপ, ডেডলাইন আর মানসিক চাপের কারণে শরীর ও মন ভেঙে পড়ে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানে বার্নআউট নামে পরিচিত। অনেকের ধারণা, এটি কেবল মাঝবয়সীদের হয়; কিন্তু বাস্তবে যে কোনো বয়সেই বার্নআউট হতে পারে, এমনকি শিশুদের মধ্যেও। যখন মস্তিষ্ক দৈনন্দিন চাপ আর নিতে পারে না, তখন মানসিক অবসাদ দেখা দেয় এবং শরীর-মন হাল ছেড়ে দেয়।
শিশুদের বার্নআউট কেন হয়?
শিশুরা নানা কারণে বার্নআউটে ভুগতে পারে। পড়াশোনার চাপ, পরীক্ষা, পারিপার্শ্বিক অবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রত্যাশা—এসবই দায়ী। একটি পরীক্ষায় খারাপ ফলও বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই মানসিক চাপ গভীরে গেঁথে যাওয়ার আগেই সতর্ক হওয়া জরুরি।
মা-বাবার ভূমিকা
শিশুকে সবচেয়ে কাছ থেকে দেখেন তার মা-বাবা। সূক্ষ্ম পরিবর্তন ও লক্ষণ দেখে সহজেই বুঝতে পারবেন সন্তান বার্নআউট হচ্ছে কি না। তখনই দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে এই অবসাদ আজীবনের জন্য মনে না বসে।
বার্নআউটের লক্ষণ
হঠাৎ গড়িমসি করা
আগে যে শিশু নিজে থেকে পড়তে বসত, এখন তাকে বারবার মনে করাতে হয়। পড়া এড়িয়ে যাওয়া এবং নানা অজুহাত দেখানো বার্নআউটের ইঙ্গিত হতে পারে।
উদাসীন ভাব
সবকিছুর প্রতি অনীহা দেখা দেয়। আগে স্কুলের ঘটনা শেয়ার করলেও এখন দুই-এক শব্দে কথা শেষ করতে চায়। আগ্রহ কমে যাওয়া বার্নআউটের লক্ষণ।
প্রিয় কাজে অনীহা
পড়াশোনার পাশাপাশি শখের কাজ বা খেলাধুলায় যেতে অনীহা দেখানো এবং বাহানা তৈরি করা বার্নআউটের অন্যতম লক্ষণ।
মনোযোগ হারিয়ে ফেলা
শিশুরা সাধারণত দীর্ঘক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে। কিন্তু হঠাৎ করে মনোযোগ কমে গেলে, যেমন আগে ২০-৩০ মিনিট মনোযোগ দিতে পারলেও এখন ১০ মিনিটও স্থির থাকতে না পারলে, তা বার্নআউটের লক্ষণ হতে পারে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও শারীরিক ক্লান্তি মনোযোগ কমিয়ে দেয়।
খিটখিটে মেজাজ
বার্নআউটের অন্যতম লক্ষণ খিটখিটে মেজাজ। শিশুর হাসিখুশি ভাব উবে গিয়ে ছোটখাটো বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ পায়।
সাহায্য করার উপায়
সন্তানকে জানুন
প্রতিটি শিশুর আচরণ ও চাপ নেওয়ার ক্ষমতা আলাদা। সময়ের সঙ্গে ও পরিবেশের ওপর নির্ভর করে এসব গড়ে ওঠে। কোন জিনিস তাকে আনন্দ দেয়, কোনটা বিরক্ত করে—তা বোঝার চেষ্টা করুন। সময় দিয়ে তাকে বিভিন্ন কাজে আগ্রহী করে তুলুন।
সন্তানকে পথ দেখান
সন্তানের ভালো ভবিষ্যৎ চান সবাই। কিন্তু সেই চাওয়া বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। সন্তানকে বোঝান যে আপনার প্রত্যাশা চাপ নয়, বরং পথ দেখানো।
সন্তানের কথা শুনুন
বেশিরভাগ সময় মা-বাবা সন্তানের কথা গুরুত্ব দেন না। কিন্তু মানসিক স্বস্তির জন্য সবচেয়ে জরুরি হলো তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং তাকে গুরুত্ববোধ করানো।
বিশ্রাম দিন
টানা কাজ করাই বার্নআউটের প্রধান কারণ। ক্লান্ত মন-শরীরকে সতেজ করতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিন। পড়াশোনা থেকে দূরে রেখে নিজের মতো সময় কাটাতে দিন।
স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করুন
ঘণ্টার পর ঘণ্টা ডিভাইসের সামনে বসে থাকা মস্তিষ্ককে শান্ত করে না, বরং বার্নআউট বাড়ায়। তাই অফলাইন বা মাঠে খেলতে নিয়ে যান। এতে শারীরিক সক্রিয়তা বাড়বে এবং মানসিক চাপ কমবে।
চাপ মোকাবিলার কৌশল শেখান
ছোটবেলা থেকেই সন্তানকে শেখান কীভাবে বুদ্ধি দিয়ে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয়। পরীক্ষার চাপ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ—এসব নিয়ে কথা বলুন। মন খারাপ হলে কথা বলা, ডায়েরি লেখা বা খেলাধুলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
সূত্র: চাইল্ড ফোকাস



