পর্যাপ্ত ঘুম শিশুদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো ঘুম শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কের বিকাশ ও আবেগ নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে।
ঘুমের অভাবের প্রভাব
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের অভাব শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, শেখার ক্ষমতা এবং সামাজিক আচরণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় বিভিন্ন বয়সী শিশুদের মধ্যে ঘুমের সময় কমে যাওয়ার বিষয়টিও উঠে এসেছে।
মানসিক ও আবেগগত প্রভাব
যেসব শিশু পর্যাপ্ত ঘুম পায় না, তারা প্রায়ই খিটখিটে হয়ে পড়ে এবং সহজেই উত্তেজিত হয়। ঘুমের ঘাটতির কারণে আবেগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দেয়, ফলে তারা মানসিক চাপ মোকাবিলায় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উদ্বেগ বা বিষণ্ণতার ঝুঁকিতে থাকে।
শেখার ও স্মৃতিশক্তির ওপর প্রভাব
একই সঙ্গে মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা, নতুন তথ্য মনে রাখা এবং সমস্যা সমাধানে শিশুদের অসুবিধা হয়।
সামাজিক আচরণে প্রভাব
এছাড়া ঘুমের অভাব শিশুদের সামাজিক আচরণেও প্রভাব ফেলে। তারা অন্যদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মিশতে না পেরে ভুল বোঝাবুঝি বা ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক সময় তাদের আচরণ মনোযোগ ঘাটতিজনিত সমস্যার মতোও মনে হতে পারে।
বাবা-মায়ের করণীয়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের সুস্থ ঘুম নিশ্চিত করতে বাবা-মায়েদের নিয়মিত ঘুমের রুটিন তৈরি করা উচিত। ঘুমানোর আগে মোবাইল বা টিভির ব্যবহার কমানো, দিনের বেলায় শারীরিক কার্যকলাপে উৎসাহ দেওয়া এবং শান্ত ও আরামদায়ক ঘুমের পরিবেশ তৈরি করা এ ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ কখন নেবেন
যদি কোনো শিশুর মধ্যে অতিরিক্ত খিটখিটে মেজাজ, রাতে বেশি কান্না বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত তন্দ্রাচ্ছন্নতার মতো লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।



