লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি বসতবাড়ির উঠান থেকে বিশাল আকৃতির বিষধর রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার রাত ৮টার দিকে উপজেলার চর লরেন্স ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম চর লরেন্স ফরাজীপাড়া এলাকার মজিবুল হক মাস্টার বাড়ির উঠানে সাপটি দেখতে পান স্থানীয়রা।
আতঙ্কে সাপ পিটিয়ে হত্যা
সাপটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে উপস্থিত লোকজন সেটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেন। তবে এই বিষধর সাপটি লোকালয়ে কীভাবে এলো এবং আশপাশে আরও সাপ রয়েছে কিনা, তা নিয়ে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাতে মজিবুল হক মাস্টার বাড়ির এক গৃহবধূ উঠানে কুন্ডলী পাকানো অবস্থায় বিশাল আকৃতির সাপটি দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে প্রতিবেশীরা জড়ো হয়ে সাপটি শনাক্ত করেন এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সেটিকে পিটিয়ে হত্যা করেন।
নতুন করে আতঙ্ক
এর আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাসেল ভাইপার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় এ ঘটনার পর থেকে ওই বাড়ির বাসিন্দাসহ আশপাশের বাড়িগুলোতে নতুন করে ভয় ও দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সোহেল রানা জানান, রাসেল ভাইপার একটি অত্যন্ত বিষধর সাপ। এর কামড়ে শরীরে রক্তক্ষরণ ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন প্রাণঘাতী সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকের পরামর্শ
তবে তিনি এলাকাবাসীকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, সাপে কামড়ালে কোনোভাবেই সময় নষ্ট না করে রোগীকে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। আক্রান্ত অঙ্গ বেশি নাড়াচাড়া করা যাবে না এবং কোনো অবস্থাতেই ঝাড়ফুঁক, ক্ষতস্থান কাটা বা শক্ত করে গিঁট দেওয়া যাবে না। বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে এন্টিভেনমসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সব ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে। বিশেষ করে রাতে চলাচলের সময় টর্চলাইট ব্যবহার ও বাড়ির চারপাশ পরিষ্কার রাখার মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, রাসেল ভাইপার বাংলাদেশের অন্যতম বিষধর সাপ, যা সাধারণত গ্রামীণ এলাকায় দেখা যায়। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ সাপের উপদ্রব বেড়েছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাপ দেখলে আতঙ্কিত না হয়ে সেটিকে সরানোর জন্য বন বিভাগ বা সাপ উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়া উচিত।



