রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত এক দাদি। তিনি জানান, নাতনি কান্না করছিল, কিন্তু তারা বুঝতে পারেননি। পুলিশের ধারণা, এসির গ্যাস লিকেজ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে।
দাদির বর্ণনা
মাসুদা বেগম নামের ওই দাদি বলেন, 'সবডি বাচ্চা কান্নাকাটি করছিলো। মনে হচ্ছিল বাচ্চার কইলজ্যাডা ফাইট্ট্যা যাইতাছে। ক্যান কানছে, আমরা বুঝতে পারি নাই গো। কান্না করতে করতেই আমার নাতিনডা ঘুমাইয়া গেলো গো।'
হাসপাতালে ভর্তি
গত সোমবার রাতে মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থেকে তাঁর বউমাকে ডেলিভারি করাতে এই হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আসার পর রাতেই তার বউমার অস্ত্রোপচার করা হয়। মেয়ে হয়েছিল। নবজাতক সুস্থ ছিল। তবে শিশুটির মা মিম আক্তার কিছুটা অসুস্থ ছিলেন। তিন দিন ধরে তারা হাসপাতালটির পোস্ট–অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
মাসুদা বেগম আরও বলেন, 'সারা রাত বাচ্চাডা কান্নাকাটি করছে। খানিক আমি লইছি, খানিক অর নানি লইছে, বাচ্চার মায়ে লইছে। এভাবে করতে করতে রাত তিনডা বাজছে। কোলে নিয়া ঘুরাঘুরি করতাছি, দোয়া দরুদও পড়ছি। বাচ্চার মা বুকের দুধও খাওয়াইছে। তারপর কতক্ষণ চুপ করছে।'
ঈদের কারণে রোজা রাখার জন্য নাতিনের নানির কাছে দিয়ে গিয়েছিলেন। সাহরি খেয়ে এসে দেখেন বাচ্চা চুপচাপ। নামাজ পড়তে গিয়ে ফিরে শুনেন, নাতিনিকে এনআইসিউতে নেওয়া হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে জানান, সে মারা গেছে।
তদন্ত
হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে সকাল ৬টা থেকে ৯টার মধ্যে ছয়টি শিশু মারা যায়। পুলিশের ধারণা, এসির গ্যাসলাইনে লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। রমনা থানার পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। সিআইডি কক্ষটি থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে।
তদন্ত কমিটি
ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন দেবে।



