দুধের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা: ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হাড় মজবুত করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি
দুধের উপকারিতা: ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হাড় মজবুত

দুধের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা: ওজন নিয়ন্ত্রণ ও হাড় মজবুত করার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি

হাজার বছর ধরে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি হিসেবে পরিচিত দুধ। যদিও পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মাঝে এর ব্যবহার নিয়ে মাঝেমধ্যে বিতর্ক ওঠে, তবে আধুনিক গবেষণা বলছে দুধের স্বাস্থ্যগত উপকারিতা অত্যন্ত জোরালো এবং বিজ্ঞানসম্মত।

দুধের পুষ্টিগুণ: একটি সম্পূর্ণ খাদ্য

এক কাপ (২৪৪ গ্রাম) গরুর দুধে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপাদানই বিদ্যমান। এতে রয়েছে ৮ গ্রাম প্রোটিন ও ৮ গ্রাম ফ্যাট। এছাড়া এটি দৈনিক ক্যালসিয়াম চাহিদার ২৮ শতাংশ, ভিটামিন ডি-র ২৪ শতাংশ এবং ভিটামিন বি ১২-এর ১৮ শতাংশ পূরণ করতে সক্ষম। এছাড়াও এতে পটাশিয়াম, ফসফরাস, সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন বি ২ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে।

রোগ প্রতিরোধে দুধের ভূমিকা

দুধে রয়েছে কনজুগেটেড লিনোলিক অ্যাসিড এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে অর্গানিক দুধে ভিটামিন-ই এবং বিটা-ক্যারোটিনের মতো অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বেশি থাকে, যা শরীরের প্রদাহ কমাতে কার্যকর।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাড় মজবুত করতে দুধের অবদান

দীর্ঘদিন ধরেই দুধকে মজবুত হাড়ের প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য করা হয়। ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়ামের পাশাপাশি এতে থাকা ভিটামিন ডি ও কে-২ শরীরের ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দুধ পান করলে বয়স্কদের অস্টিওপরোসিস বা হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে দুধের কার্যকারিতা

অনেকের ধারণা দুধ ওজন বাড়ায়, কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা। দুধে থাকা উচ্চমাত্রার প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে। ১৮ হাজার মহিলার ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, উচ্চ চর্বিযুক্ত দুগ্ধজাত খাবার ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এছাড়া শরীরচর্চার পর দুধ পান করলে পেশির ক্ষয় রোধ হয় এবং শারীরিক কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। এটি একটি ‘কমপ্লিট প্রোটিন’, কারণ এতে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সবকটি অ্যামিনো অ্যাসিড বিদ্যমান।

ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতার বিকল্প

তবে অনেক মানুষের শরীরে ল্যাকটোজ সহ্য হয় না। তাদের জন্য বিশেষজ্ঞরা আমন্ড মিল্ক, রাইস মিল্ক, ওট মিল্ক বা কোকোনাট মিল্কের মতো বিকল্প গ্রহণ করার পরামর্শ দিয়েছেন।