অপ্রচলিত মাদক ‘কুশ’–এর গাছ। ঢাকার ওয়ারীর বাসায় এই মাদকের চাষ করা হচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের আগে রোগীদের চেতনানাশক ওষুধ হিসেবে তরল কেটামিন ব্যবহার করা হয়। এই ওষুধ চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া বিক্রি নিষেধ। এই তরল কেটামিন বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাউডারে রূপান্তর করে এখন মাদক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর সেই কাজ হচ্ছে ঢাকায় বসে। ‘মিনি ল্যাব’ স্থাপন করে এমন মাদক তৈরির চক্র সম্প্রতি ধরা পড়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে। মিনি ল্যাব বসিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক তৈরি করছে, এমন আরও তিনটি চক্রের সন্ধান সম্প্রতি পেয়েছে অধিদপ্তর।
কেটামিন ও কুশ মাদক তৈরির চক্র
ঢাকা মহানগরীর ওয়ারী এলাকায় একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রচলিত মাদক ‘কুশ’ ও তরল কেটামিন থেকে পাউডার মাদক তৈরির একটি চক্রকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কুশ গাছ, কেটামিন পাউডার, তরল কেটামিন এবং মাদক তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম।
কেটামিনের অপব্যবহার
সাধারণত চিকিৎসা কাজে ব্যবহৃত কেটামিন একটি চেতনানাশক ওষুধ। কিন্তু বর্তমানে এটি মাদক হিসেবে অপব্যবহার হচ্ছে। তরল কেটামিনকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাউডারে রূপান্তর করে তা সেবন করা হচ্ছে। চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া এই ওষুধ বিক্রি নিষিদ্ধ হলেও চক্রটি তা অবৈধভাবে সংগ্রহ করে মাদক তৈরি করছিল।
অধিদপ্তরের অভিযান
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়ারীর বাসায় অভিযান চালায়। এ সময় চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক ও মাদক তৈরির সামগ্রী জব্দ করা হয়। অধিদপ্তর জানায়, মিনি ল্যাব বসিয়ে বিভিন্ন ধরনের মাদক তৈরি করছে, এমন আরও তিনটি চক্রের সন্ধান পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। যারা মাদক তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।’



