দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২১, অবৈধ কক্ষের অভিযোগ
দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২১, অবৈধ কক্ষের অভিযোগ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির হাওজ রানি এলাকায় ‘ফ্লুরিশ স্টে’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, হোটেলটি মাত্র ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমতি পেলেও সেখানে অবৈধভাবে ২৫টি কক্ষ চালু রাখা হয়েছিল। দিল্লি পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, হোটেলটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। ফলে আগুন লাগার পর অধিকাংশ অতিথি নিরাপদে বের হতে পারেননি। দমবন্ধ হয়ে নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জ্বলন্ত ভবন থেকে ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ও বিস্তার

বুধবার (৩ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে হোটেলটির বেসমেন্টে অবস্থিত একটি রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত ‘ফ্লুরিশ স্টে’ হোটেলটি পরিচালনার ক্ষেত্রে দিল্লি সরকারের বিভিন্ন নিয়মের গুরুতর লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

নিয়ম লঙ্ঘন ও অবৈধ কার্যক্রম

হোটেলটি সরকারের ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ (বি অ্যান্ড বি) স্কিমের আওতায় লাইসেন্স পেয়েছিল। ওই নীতিমালা অনুযায়ী একটি কমপ্লেক্সে সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনার অনুমতি রয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কর্তৃপক্ষ নিয়ম অমান্য করে ২৫টি কক্ষ নিয়ে হোটেল পরিচালনা করছিল। শুধু তাই নয়, নিয়মবহির্ভূতভাবে বেসমেন্টেও একাধিক কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলটিতে অন্তত ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যাদের অধিকাংশই বিদেশি নাগরিক। তারা মূলত উন্নত চিকিৎসাসেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ভারতে এসেছিলেন। নিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করে পরিচালিত হওয়ায় হোটেলটি কার্যত পর্যটকদের জন্য একটি মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উদ্ধার অভিযান ও হতাহত

ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, আগুন লাগার সময় বেশিরভাগ অতিথিই নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে দুটি ওয়াটার ইঞ্জিন, দুটি ওয়াটার বাউজার, কুইক রেসপন্স টিমসহ একাধিক অগ্নিনির্বাপক ইউনিট মোতায়েন করা হয়। দমবন্ধ হয়ে নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। তবে ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা জ্বলন্ত ভবন থেকে ৪৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন।