রাজারহাটে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ
রাজারহাটে চামড়ার দাম নিয়ে ক্ষোভ ও তদারকির প্রতিশ্রুতি

যশোর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের শরিফুল ইসলাম দুটি গরু ও তিনটি ছাগলের চামড়া বিক্রি করতে এসেছিলেন দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম পাইকারি চামড়ার মোকাম রাজারহাটে। তিনি মাঝারি আকারের দুটি গরুর চামড়া ৮৫০ টাকা এবং তিনটি ছাগলের চামড়া ৬০ টাকায় বিক্রি করেছেন। শরিফুল ইসলাম বলেন, 'নিজেদের কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে এসেছি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরকারি বেঁধে দেওয়া দরের কাছেও দাম বলেনি। পিস হিসেবে চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে। মাঝারি গরুর চামড়া ৪০০-৪২৫ টাকা, বড় খাসির চামড়া ২০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। সরকারি দামে বিক্রি হলে দুটি গরুর চামড়ার দাম হতো ১ হাজার ২৫০ টাকার বেশি। কিন্তু ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো দাম নির্ধারণ করছেন।'

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

শরিফুল ইসলামের মতো অনেকেই ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে যশোর জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, 'ওই ব্যক্তি সরকারি দামে ১ হাজার ২৫০ টাকার বেশি পেতেন, কিন্তু ট্যানারি মালিকেরা সরকারি দামে চামড়া কিনছেন না। লবণ ও শ্রমিকের মজুরি বেড়েছে, কেমিক্যালের দাম বেড়েছে বলে তাঁরা সরকারি দাম দিতে পারছেন না। ফলে চামড়ার দাম কমছে।'

মোকামের চিত্র

কোরবানি ঈদের প্রথম দিন রাজারহাট মোকামে দেখা গেছে, মৌসুমি ও আড়তদার ব্যবসায়ীরা শ্রমিকদের দিয়ে কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাত করছেন। শ্রমিকেরা লবণ মাখাতে ব্যস্ত। অনেকে আজও চামড়া বিক্রি করতে এসেছেন, কিন্তু সরকারি বেঁধে দেওয়া প্রতি বর্গফুট ৫২-৫৫ টাকা দরে বেচাকেনা দেখা যায়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুরনো ব্যবসায়ীর মত

৩০ বছরের চামড়া ব্যবসায়ী পাগল চাঁদ সরকারি দাম জানেন না। তিনি বলেন, 'সরকারি দামে কখনো বেচাকেনা হয় না। এবারও পিস হিসেবে কিনেছি ও বিক্রি করছি।' গতকাল তিনি ৫০টি গরু ও ৬০টি ছাগলের চামড়া কিনেছেন, যা লবণ মাখিয়ে রাখা হয়েছে এবং শনিবার হাটে তোলা হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদারকির প্রতিশ্রুতি

সরকারি দামে চামড়া কেনাবেচা তদারকির দায়িত্বে থাকা যশোর জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা কিশোর কুমার সাহা বলেন, 'সরকারি দাম ৫২-৫৫ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে কি না, তা তদারকি করা হচ্ছে। বাজারে গিয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিন জেলা প্রশাসনের সঙ্গে রাজারহাট মোকামে তদারকি চলবে। সরকারি রেটে বেচাকেনা না হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

রাতের বেচাকেনা

ঈদের দিন সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাজারহাট মোকামে কাঁচা চামড়ার জমজমাট বেচাকেনা হয়েছে। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গ্রাম থেকে চামড়া কিনে এনে আড়তদারদের কাছে বিক্রি করেন। সাধারণ মানুষও নিজেদের পশুর চামড়া বিক্রি করতে আসেন। গিয়াস উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ১৫-২০ হাজার গরু ও ৫-১০ হাজার ছাগলের চামড়া বেচাকেনা হয়েছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, কাঁচা চামড়ার হাট রাতে জমে। শনিবার ঈদের পর প্রথম হাট বসবে, তবে তা সাধারণত জমে না; দ্বিতীয় হাট জমজমাট হবে বলে আশা।