ঈদযাত্রার শেষ দিনে গাবতলীতে চরম ভোগান্তি, ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা
ঈদযাত্রার শেষ দিনে গাবতলীতে চরম ভোগান্তি, ৬ ঘণ্টা অপেক্ষা

ঈদযাত্রার শেষ দিনে আজ বুধবার রংপুর যাবেন মো. ফরিদ ও আবদুল হাকিম। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে তাঁদের বাস ছেড়ে যাওয়ার কথা। নির্ধারিত সময়ের আধা ঘণ্টা আগেই টার্মিনালে আসেন দুজন। কিন্তু সাড়ে ১০টা পেরিয়ে গেলেও বাস ছাড়েনি। শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা। এরপর বেলা সোয়া ২টার দিকে যখন আবদুল হাকিমের সঙ্গে কথা হয়, তখনো তিনি বাসের অপেক্ষায়। বললেন, ‘যাত্রা শুরুর আগেই এবার ভোগান্তিতে পড়ে গেলাম।’

উত্তরবঙ্গের যাত্রীদের দুর্ভোগ

গাবতলী বাস টার্মিনাল থেকে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার ঘুরমুখী মানুষেরা আজ এমন ভোগান্তিতে পড়েছেন। তবে দক্ষিণের জেলাগুলোর কিছু বাস নির্ধারিত সময়ে ছেড়েছে, কিছু দেরিতে ছেড়েছে। সব মিলিয়ে উত্তর ও দক্ষিণে যাত্রীদের কাউকে ৪ ঘণ্টা, আবার কাউকে কাউকে ৬ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়েছে। কাউন্টারে থাকা লোকেরা বলেছেন, উত্তরের বিভিন্ন জেলা থেকে বাস আসতে দেরি হচ্ছে। বিশেষ করে যমুনা সেতু এলাকায় দীর্ঘ যানজট রয়েছে। এ ছাড়া আমিনবাজার, সাভারসহ বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুবাহী যানবাহনের কারণে যানজট হচ্ছে। তাই বাসগুলো আবার ছেড়ে যেতেও সময় লাগছে। যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

বাস বাতিল ও টাকা ফেরত

ফরিদ আর হাকিম সেন্ট মার্টিন সি ভিউ এক্সপ্রেস বাসের কাউন্টারে অপেক্ষা করছিলেন। আজ দুপুরে কাউন্টারের কর্মী তৌহিদুল শেখ বলেন, বাস যমুনা সেতু এলাকায় যানজটে আটকে আছে। এ কারণে সকালের বাসগুলো দুপুরেও ছাড়া সম্ভব হয়নি। তৌহিদুল শেখ আরও বলেন, এ পরিস্থিতিতে বেলা ২টায় বাস ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেটার যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। যাত্রীদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। সকাল সাড়ে ১০টার বাসের যেসব যাত্রী অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের অন্য একটি বাসে পাঠানোর চিন্তা করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দক্ষিণের বাসেও দেরি

শুধু উত্তরবঙ্গ অভিমুখী নয়, দক্ষিণের কিছু বাসও দেরি করে ছেড়েছে। ঈদযাত্রায় সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যাওয়ার জন্য আজ সকাল ৬টায় গাবতলী টার্মিনালে আসেন তরিকুল ইসলাম। টিকিট কাটা ছিল সাতক্ষীরা লাইন নামে একটি বাসে। বাস ছাড়ার কথা ছিল সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে। বেলা ১টার দিকে তরিকুল প্রথম আলোকে বলেন, প্রায় ৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বাস আসেনি। তরিকুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। থাকেন গাবতলীর পাশেই। বললেন, ‘গ্রামে পরিবার আছে। বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়ে গেলাম। কষ্ট হলেও পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে গ্রামে যেতেই হবে।’

যাত্রীর চাপ কম, তবু ভোগান্তি

সরেজমিনে আজ দুপুর ১২টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক কম দেখা গেছে। সাকুরা পরিবহনের কর্মী মো. হাবিব বললেন, তাঁদের কাছে পর্যাপ্ত টিকিট আছে। কিন্তু যাত্রী কম। তাঁদের বাসগুলো বরিশাল, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনার পথে চলাচল করে। হাবিব বলেন, পদ্মা সেতু দিয়ে অনেক যাত্রী চলাচল করেন। তাই গাবতলী বাস টার্মিনাল হয়ে যাত্রা কমিয়ে দিয়েছেন অনেকেই। এ কারণে ভিড় কম থাকতে পারে।

বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ

যাত্রীদের কেউ কেউ বাড়তি ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ করলেন। তাঁদেরই একজন মো. আল-আমিন। ঢাকায় থাকেন। সরকারি চাকরি করেন। ঈদ করতে বগুড়ায় যাবেন। সচরাচর এসি বাসে যাতায়াত করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার সেন্ট মার্টিন সি ভিউ এক্সপ্রেসে টিকিট কেটেছেন। দাম নিয়েছে ২ হাজার টাকা। আল-আমিন বলেন, অন্যান্য সময় একেকটি টিকিট ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দাম রাখে। কিন্তু এবার ঈদের সময় ২ হাজার টাকা নিয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আঁখি শেখ প্রথম আলোকে বলেন, বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কিছু অভিযোগ তাঁরা পেয়েছেন। ব্যবস্থাও নিয়েছেন। অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় গাবতলীতে দুজন এবং মিরপুরে দুজনকে জরিমানা করা হয়েছে। গাবতলীতেই একজনকে ৮ হাজার টাকা, আরেকজনকে ৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।