রাজধানীতে হাসপাতালের ওয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে ৬ শিশুর মৃত্যু
রাজধানীতে হাসপাতালের ওয়ার্ডে গ্যাস লিকেজে ৬ শিশুর মৃত্যু

রাজধানীর মগবাজারের আদ-দ্বীন হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে এসির (এয়ার কন্ডিশনার) গ্যাস লিকেজ থেকে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিবরণ

ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার তদন্ত ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডের এসি সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। সেখান থেকে গ্যাস লিকেজ হয়। এরপর ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন শিশুদের অবস্থার অবনতি ঘটে এবং একপর্যায়ে ছয়টি শিশুর মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

আদ-দ্বীন হাসপাতালের পরিচালক (প্রশাসন) তারিকুল ইসলাম মুকুল জানান, মঙ্গলবার রাতে ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানতে পেরেছেন। তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে গিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শোকসন্তপ্ত পরিবারের অভিযোগ

একটি শিশুর দাদি অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসকেরা যদি পরিস্থিতি সামাল দিতে না পারেন, তাহলে তাদের অন্য হাসপাতালে যেতে বলতে পারতেন। তিনি জানান, তাকে জানানো হয়েছিল তার নাতনিকে আইসিইউতে নেওয়া হয়েছে এবং ওষুধের জন্য হাজার হাজার টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর তিনি জানতে পারেন শিশুটি আর বেঁচে নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাতে ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত ডাক্তার ও নার্স ছিলেন না। শিশুরা সারারাত কান্নাকাটি করছিল এবং একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল।

আরেক মা যিনি তার সন্তান হারিয়েছেন, তিনি বলেন, ওই ওয়ার্ডের প্রায় সব শিশু রাতে কান্নাকাটি করছিল এবং বমি করছিল। কেউ বুঝতে পারেনি কী ঘটছে। সকালে শিশুটির অবস্থার অবনতি হলে তাকে বের করে নেওয়া হয়। পরে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা ইউনিটে (এনআইসিইউ) নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে তাকে আশ্বস্ত করেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পর শিশুটির মৃত্যুর খবর দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালের পরিচালকের ব্যাখ্যা

মৃত্যুর বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক ডা. নাহিদা ইয়াসমিন বলেন, প্রসবোত্তর ওয়ার্ডে ১১ জন মা এবং ছয়টি শিশু ছিল। প্রথমে দুটি শিশু অসুস্থ হলে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে তাদের আবার ওয়ার্ডে পাঠানো হয়। সকাল ৬টার দিকে শিশুরা আবার অসুস্থ হলে তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হয়। পরে তাদের ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়, কিন্তু তাদের বাঁচানো যায়নি।

পুলিশ কমিশনারের বক্তব্য

ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, প্রসবোত্তর কক্ষে ১১ জন মা, যার মধ্যে ছয়টি নবজাতক শিশু ছিল, অবস্থান করছিল। একজন নবজাতকের মা ঠান্ডা লাগায় এসি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। পরে নার্স প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখেন। তারপর গরম লাগায় আবার এসি চালু করলে দুটি শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর বাকি চারটি শিশুও অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যু হয়। তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে সিআইডির একটি দল কাজ করছে। প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।