কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা একটি ধর্ষণ মামলায় চাঁদপুর সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. মেহেদী হাছানকে (৩৯) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ মে) বিকাল সাড়ে ৪টায় চাঁদপুর সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত মেহেদী হাছান চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার ফতেপুর তুলপাই গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী একটি নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। ২০২১ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে আসামি মেহেদী হাছান ওই ছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
ধর্ষণের ঘটনার সময় মেহেদী হাছান কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে কর্মরত ছিলেন। পরবর্তীকালে তিনি বদলি হয়ে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে যোগ দেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই পাশবিক নির্যাতনের কারণে ওই নার্সিং শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাও নেন।
পরবর্তী সময়ে কোনও উপায় না দেখে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বাদী হয়ে কুমিল্লার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিলে পিবিআই কুমিল্লা শাখা ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে।
অভিযুক্তকে গ্রেফতারের বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “কুমিল্লার আদালতে দায়ের করা একটি ধর্ষণ মামলায় আসামি মেহেদী হাছানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা (ওয়ারেন্ট) ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলিম হাসপাতাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করেন।”
ওসি আরও জানান, গ্রেফতারের পর আসামিকে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং রবিবার (২৪ মে) তাকে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে সোপর্দ করা হবে।



