মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) রাজধানীর ২৯টি কোরবানির হাটে প্রাণীর প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদানের জন্য বিনামূল্যে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম পরিচালনা করছে। ডিএলএস-এর উদ্যোগে পরিচালিত এই মেডিক্যাল টিমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি), শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) ও গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) মোট ৮৭ জন শিক্ষার্থী ইন্টার্ন ভেটেরিনারি চিকিৎসক হিসেবে অংশ নিয়েছেন। তারা দায়িত্বরত অফিসার ও সিনিয়র ভেটেরিনারিদের সঙ্গে মিলে হাটের ভেতরে ভ্রাম্যমাণ সেবা প্রদান করছেন।
সেবার সময়সূচি ও এলাকা
শনিবার (২৩ মে) থেকে আগামী ২৬ মে পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ১১টি হাট ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ১৮টি হাটে এই সেবার আওতায় প্রাণীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও জরুরি মেডিক্যাল সহায়তা প্রদানের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ভেটেরিনারি টিমের কার্যক্রম
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের উত্তরা দিয়াবাড়ি ২ নম্বর হাটের দায়িত্বপ্রাপ্ত ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. সালেফা আক্তার বলেন, ‘প্রতিবছরের ন্যায় এবারও কোরবানির হাটে ভেটেরিনারি সেবা দেওয়া হচ্ছে। অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি ডাক্তার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টার্ন শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। আমরা অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ ব্যবহার এড়িয়ে প্রয়োজনভিত্তিক প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করছি।’
এই হাটের ইন্টার্ন ভেটেরিনারি ডাক্তার আর এস মাহমুদ হাসান বলেন, ‘হাটে এসে আমরা অধিকাংশ কেসে দেখছি যে প্রাণীগুলো স্ট্রেসে রয়েছে। মূলত দীর্ঘ যাত্রাপথে পর্যাপ্ত ফ্লোর স্পেস ও ছাউনি না পেয়ে গরমে গাদাগাদি করে পরিবহনে আসায় এমন অবস্থা হয়েছে। এছাড়া প্রাণীগুলো হাটে আসার পরেও তপ্ত রোদ বা আংশিক বদ্ধ স্থানে গাদাগাদি থাকার কারণে হিট স্ট্রোক ও মারাত্মক পানি শূন্যতায় ভুগছে।’
সমন্বয় ও প্রস্তুতি
ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের কেন্দ্রীয় সমন্বয় টিমের কর্মকর্তা ড. মো. সফিকুর রহমান (শশী) বলেন, ‘কোরবানির প্রাণী ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন, পরিচর্যা এবং জবাই-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় যেন কোনো ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতিটি ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমে অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ান, ফিল্ড স্টাফ ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাণীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অসুস্থ প্রাণী শনাক্তকরণ, অ্যান্টিবায়োটিক বা হরমোন ব্যবহারের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং খামারি ও সাধারণ ক্রেতাদের পরামর্শ প্রদানের কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে।’



