প্রযুক্তির প্রভাবে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য হুমকিতে: বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা
প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি নিয়মিত আয়োজন হিসেবে মাদকবিরোধী পরামর্শ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৩ সালের ২০ মে, শনিবার, ধানমন্ডির ডব্লিউভিএ মিলনায়তনে এই সহায়তা সভা আয়োজিত হয়। ট্রাস্টের ১৬৮তম এই সভায় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন বিজ্ঞ আলোচকরা।
ডিজিটাল আসক্তি ও তুলনামূলক মানসিকতার প্রভাব
সভায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান তার বক্তব্যে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'আমাদের এ প্রজন্মের সন্তানেরা প্রযুক্তির কারণে মুহূর্তেই জানতে পারছে দূরদেশের বাবা-মায়েরা তাদের সন্তানদের সাথে কেমন আচরণ করছেন। এই সহজলভ্য তথ্যের কারণে তারা নিজেদের জীবনের সাথে একটি অদৃশ্য তুলনা শুরু করে। আর এই তুলনা থেকেই মূলত সন্তানদের মন খারাপের সূত্রপাত হয়।'
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই ডিজিটাল আসক্তি ও তুলনামূলক মানসিকতা শিশুদের স্বাভাবিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলস্বরূপ, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে। ডা. ফারজানা রহমানের মতে, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
সমাধানের উপায়
বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন:
- প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত রাখা এবং শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট সময় বরাদ্দ করা।
- সন্তানদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং তাদের মানসিক অবস্থা বোঝার চেষ্টা করা।
- তুলনামূলক মানসিকতা এড়িয়ে চলা এবং প্রতিটি শিশুর স্বকীয়তা মূল্যায়ন করা।
- মাদকবিরোধী আন্দোলন ও শিক্ষামূলক কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানো।
ডা. ফারজানা রহমান স্পষ্টভাবে জানান, 'সুতরাং এগুলো থেকে নিজেকে দূরে থাকতে হবে এবং সন্তানকেও দূরে রাখতে হবে।' এই বার্তা সমাজের সকল স্তরের মানুষের জন্য একটি সতর্কবাণী হিসেবে কাজ করছে।
সভার অন্যান্য দিক
এই মাদকবিরোধী পরামর্শ সভাটি প্রথম আলো ট্রাস্টের একটি নিয়মিত উদ্যোগ, যা সমাজের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা ও সমাধান খোঁজার সুযোগ তৈরি করে। অংশগ্রহণকারীরা মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত জটিল বিষয়গুলো নিয়ে সরাসরি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ পেয়েছেন। এই ধরনের আয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
উল্লেখ্য, মাদকবিরোধী আন্দোলন ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রথম আলো ট্রাস্টের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতেও এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।



