পিরিয়ডের ব্যথায় আইবুপ্রোফেন বেশি কার্যকর, তবুও নারীরা নিচ্ছেন প্যারাসিটামল
পিরিয়ডের ব্যথায় আইবুপ্রোফেন বেশি কার্যকর

একটি বড় গবেষণায় দেখা গেছে, পিরিয়ডের বা মাসিকের ব্যথার জন্য অনেক নারীই সবচেয়ে কার্যকর ব্যথানাশকটি বেছে নিচ্ছেন না। তথ্যপ্রমাণ অনুযায়ী এই ধরনের ব্যথায় 'আইবুপ্রোফেন' বেশি কার্যকর হলেও বেশিরভাগ নারীই 'প্যারাসিটামল' ব্যবহার করছেন।

গবেষণার ফলাফল

মেডিকেল জার্নাল পিএলওএস ডিজিটাল হেলথ-এ প্রকাশিত এই গবেষণা অনুসারে, পিরিয়ড পণ্যের (যেমন স্যানিটারি প্যাড) সঙ্গে কেনা ব্যথানাশকগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই ছিল প্যারাসিটামল। এর বিপরীতে, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ক্রেতা আইবুপ্রোফেন বেছে নিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের একটি বড় রিটেল চেইনের লয়্যালটি কার্ড প্রোগ্রামের মাধ্যমে ২০০৬ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে করা ২১ কোটিরও বেশি কেনাকাটার ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণাটি চালানো হয়। নারীরা পিরিয়ডের ব্যথা কীভাবে সামলান, তা আরও ভালোভাবে বুঝতে গবেষকেরা প্রায় ৩৪ লাখ গ্রাহকের কেনাকাটার অভ্যাস বিশ্লেষণ করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আইবুপ্রোফেন কেন বেশি কার্যকর?

গবেষণায় যুক্ত স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, প্যারাসিটামল ব্যথা ও জ্বর কমাতে কার্যকর হলেও, মাসিকের ব্যথার জন্য আইবুপ্রোফেন অনেক বেশি উপযুক্ত। কারণ এটি ব্যথার মূল কারণটির ওপর কাজ করে।

পিরিয়ডের সময় জরায়ুর পেশীগুলোর সংকোচন বা টান লাগার কারণে তীব্র ব্যথা ও ক্র্যাম্প তৈরি হয়। আর এই সংকোচন ট্রিগার করে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন নামক কিছু রাসায়নিক উপাদান। আইবুপ্রোফেন শরীরে এই প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন তৈরি হওয়া কমিয়ে দেয়, ফলে ব্যথা দ্রুত উপশম হয়।

অন্যদিকে, প্যারাসিটামল মূলত মস্তিষ্কে ব্যথার সংকেত পৌঁছানো কমিয়ে দিয়ে কাজ করে। জরায়ুর ভেতরের এই প্রদাহ বা সংকোচন কমানোর মতো কোনো উল্লেখযোগ্য গুণ প্যারাসিটামলের নেই।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষজ্ঞদের মতামত

ব্রিস্টল বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. আনিয়া স্কাতোভা বলেন, এই গবেষণাটি হয়তো সমগ্র জনসংখ্যার শতভাগ নিখুঁত প্রতিনিধিত্ব করে না, তবে পিরিয়ডের ব্যথার জন্য নারীরা সাধারণত কী ধরনের ওষুধ কিনছেন সে সম্পর্কে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দেয়।

গবেষকদের মতে, মাসিকের ব্যথা সাধারণত জরায়ুর স্বাভাবিক সংকোচনের কারণেই ঘটে। তবে কিছু নারীর শরীরে প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনের মাত্রা বেশি থাকার কারণে লক্ষণগুলো অত্যন্ত তীব্র ও কষ্টদায়ক হতে পারে।

নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জেমস গোল্ডিং পিরিয়ডের ব্যথা এবং এর প্রতিকারের উপায়গুলো নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে আরও বেশি সচেতনতা তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। সেই সঙ্গে এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি জানান।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, পিরিয়ডের ব্যথা যদি এতটাই তীব্র হয় যা আপনার দৈনন্দিন স্বাভাবিক কাজকর্ম বা জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়, তবে অবশ্যই একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কিছু ক্ষেত্রে, এই অতিরিক্ত ব্যথার পেছনে এন্ডোমেট্রিওসিস বা জরায়ু ফাইব্রয়েডের মতো অন্তর্নিহিত শারীরিক সমস্যা থাকতে পারে, যার জন্য সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন হয়।

পাশাপাশি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আইবুপ্রোফেন সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। তাই যেকোনো ব্যথানাশক ওষুধ ব্যবহারের আগে প্যাকেটের নির্দেশিকা সাবধানে পড়া এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।