মিজেলসে তিন শিশুর মৃত্যু, ঢাকায় সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত মিজেলস ও সংশ্লিষ্ট লক্ষণে কমপক্ষে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই মৃত্যুগুলোর মধ্যে দুটি ঢাকা বিভাগে রিপোর্ট করা হয়েছে, যা স্বাস্থ্য সংকটের তীব্রতা নির্দেশ করছে।
২৪ ঘণ্টায় আক্রান্তের পরিসংখ্যান
বুলেটিনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টার সময়কালে ১,০৩২ জন সন্দেহভাজন মিজেলস রোগী রিপোর্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা—৫০৫ জন—ঢাকা বিভাগে রেকর্ড করা হয়েছে, যা মোট আক্রান্তের প্রায় অর্ধেক। একই সময়ে, ৭৬ জন নিশ্চিত মিজেলস রোগী শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৬১ জনই ঢাকা বিভাগের।
হাসপাতালে ভর্তি ও ছাড়পত্র
এই সময়ে ৬৬৬ জন সন্দেহভাজন মিজেলস রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে, ৪৬৮ রোগী চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন, যা কিছুটা স্বস্তির খবর বয়ে আনছে।
মার্চ থেকে মৃত্যুর সার্বিক চিত্র
ডিজিএইচএসের তথ্য অনুসারে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিজেলসে মোট ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা মহামারী নিয়ন্ত্রণের জন্য জরুরি পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে টিকা কার্যক্রম জোরদার এবং সচেতনতা বৃদ্ধি করার উপর জোর দিচ্ছেন। তারা বলছেন, মিজেলস একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ, এবং সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এর বিস্তার রোধ করা সম্ভব।
এই সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, কিন্তু জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিশুদের টিকা দেওয়া এবং লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।



