স্নায়ুর ব্যথা নাকি পেশির টান? পার্থক্য না বুঝলে বাড়তে পারে স্বাস্থ্যঝুঁকি
শরীরের কোথাও ব্যথা হলেই অনেকেই তা ‘পেশির টান’ ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু সব ব্যথার উৎস এক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্নায়ুর ব্যথা এবং পেশির ব্যথার মধ্যে পার্থক্য বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নইলে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে জটিলতা বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ব্যথার ধরনেই মিলবে ইঙ্গিত
চিকিৎসকদের মতে, ব্যথার প্রকৃতি লক্ষ্য করলেই বোঝা যায় সেটি কোথা থেকে আসছে। সঠিকভাবে ব্যথার ধরন চিহ্নিত করা গেলে দ্রুত ও কার্যকরী চিকিৎসা সম্ভব হয়।
স্নায়ুর ব্যথার লক্ষণ
এ ধরনের ব্যথা সাধারণত তীব্র হয় এবং অনেক সময় বৈদ্যুতিক শকের মতো বা জ্বালাপোড়ার অনুভূতি দেয়। শরীরের একটি অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়া এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য। এর সঙ্গে ঝিনঝিন, অবশভাব বা সূচ ফোটার মতো অনুভূতিও থাকতে পারে। এই ব্যথা প্রায়ই দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং রাতে তীব্রতা বাড়তে পারে।
পেশির ব্যথার লক্ষণ
পেশির ব্যথা তুলনামূলকভাবে মৃদু ও চাপধরা ধরনের হয়। নড়াচড়া করলে টান লাগে বা খিঁচ ধরার মতো অনুভূতি হয়। সাধারণত এটি একটি নির্দিষ্ট জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং স্পর্শ বা নড়াচড়ায় ব্যথা বাড়ে। শরীরচর্চা বা ভারি কাজের পর এমন ব্যথা বেশি দেখা যায় এবং বিশ্রামে সাধারণত তা কমে যায়।
কেন হয় এই ব্যথা?
স্নায়ুর ব্যথা সাধারণত ডিস্কের সমস্যা, কার্পাল টানেল সিনড্রোম, ডায়াবেটিস বা স্নায়ুর ওপর চাপের কারণে হয়। এছাড়া সংক্রমণ বা প্রদাহও স্নায়ুর ব্যথার উৎস হতে পারে।
অন্যদিকে, পেশির ব্যথা হয় অতিরিক্ত পরিশ্রম, ভুল ভঙ্গিতে বসা, আঘাত পাওয়া বা শরীরে পানির ঘাটতির ফলে। পেশির ক্লান্তি বা দুর্বলতাও এর একটি সাধারণ কারণ।
কখন সতর্ক হবেন?
নিচের লক্ষণগুলো দেখা গেলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- ব্যথা যদি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে
- শরীরের কোনো অংশে দুর্বলতা বা অসাড়তা দেখা দেয়
- হাত-পা নড়াতে সমস্যা বা ভারসাম্য হারানো
- প্রস্রাব বা মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা
- বিশ্রাম নেওয়ার পরও ব্যথা না কমা বা রাতে তীব্র হয়ে ওঠা
কী করবেন?
পেশির ব্যথা সাধারণত বিশ্রাম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং সাধারণ ব্যথানাশকেই ১–২ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। তবে ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় বা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। স্নায়ুর ব্যথার ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা ও সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যাতে জটিলতা এড়ানো যায়।
স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে এই ধরনের ব্যথা থেকে সতর্ক থাকা সম্ভব। নিয়মিত শরীরচর্চা, সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা পেশির ব্যথা প্রতিরোধে সহায়ক। অন্যদিকে, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও স্নায়ুর স্বাস্থ্য রক্ষায় সচেতনতা স্নায়ুর ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখে।



