বাংলাদেশে ই-সিগারেট নীতির জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান
বাংলাদেশে ই-সিগারেট নীতির জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক আহ্বান

বাংলাদেশে ই-সিগারেট নীতির জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান

বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেন্ডস্টা) ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম (ইএনডিএস) বা ই-সিগারেটের জন্য আরও প্রমাণভিত্তিক ও ব্যবহারিক নীতিমালা প্রণয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়েছে যে এই পণ্যগুলো সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে, যা সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ

শনিবার (৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ঢাকার বনানীতে প্লাটিনাম গ্র্যান্ডের জিজি ব্যানকুয়েট হলে এক সংবাদ সম্মেলনে বেন্ডস্টার নেতৃবৃন্দ এই মন্তব্য করেন। সংবাদ সম্মেলনে তারা উল্লেখ করেন যে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচকে তামাক পণ্য হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল, যা পর্যালোচনার উদ্যোগ একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

তবে সংগঠনটি এই প্রক্রিয়ায় কিছু গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে আংশিক ও বিভ্রান্তিমূলক তথ্য উপস্থাপনের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। বেন্ডস্টার মতে, এই ধরনের তথ্য জনসাধারণের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি করতে পারে এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাংলাদেশে ই-সিগারেট ব্যবহারের বর্তমান চিত্র

বেন্ডস্টার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় দশ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ই-সিগারেট বা ভেপ ব্যবহার করছেন। এই ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ ধূমপানের বিকল্প হিসেবে অথবা এর ক্ষতি কমানোর উদ্দেশ্যে এই পণ্যগুলো ব্যবহার করে থাকেন। সংগঠনটি আরও জানায় যে, এই খাতে একশতেরও বেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং ছয় শতাধিক খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে, যা বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ই-সিগারেট সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত না হলেও বেশ কিছু আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা এটিকে প্রচলিত সিগারেটের তুলনায় কম ক্ষতিকর হিসেবে বিবেচনা করে। বেন্ডস্টা উল্লেখ করে যে, যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য নির্দেশিকায় ধূমপান ত্যাগে সহায়তার একটি বিকল্প হিসেবে ই-সিগারেটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব

সংগঠনটি জানায় যে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং ইতালির মতো দেশগুলোতে ই-সিগারেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ নয়। বরং সেসব দেশে নির্দিষ্ট নিয়মকানুনের অধীনে এগুলোর ব্যবহার অনুমোদিত। বেন্ডস্টা সতর্ক করে দিয়েছে যে, সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞার ফলে কালোবাজার সৃষ্টি হতে পারে এবং অনিয়ন্ত্রিত পণ্যের বিস্তার ঘটতে পারে।

এই সমস্যা সমাধানে সংগঠনটি এই খাতের জন্য একটি উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ কাঠামো চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। এই কাঠামোর মধ্যে থাকবে:

  • পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ
  • বয়স সীমা নির্ধারণ
  • ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য লাইসেন্সিং ব্যবস্থা
  • খাতটিকে করের আওতায় আনা
  • নাবালকদের প্রবেশাধিকার সীমিত করা

তিনটি মূল ক্ষেত্রের ওপর জোর

বেন্ডস্টা নেতৃবৃন্দ বলেছেন যে, ই-সিগারেট সম্পর্কিত যেকোনো নীতিমালা তিনটি মূল ক্ষেত্র বিবেচনায় রাখা উচিত:

  1. জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা: সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ
  2. বাজার নিয়ন্ত্রণ: অবৈধ কার্যকলাপ রোধে উপযুক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা
  3. ক্ষতি হ্রাস: ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে বিকল্প পথ তৈরি

তারা বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের পরিবর্তে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ ও বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। বেন্ডস্টার মতে, সঠিক তথ্য ও গবেষণাভিত্তিক বোঝাপড়াই এই জটিল বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রণয়নে সহায়তা করতে পারে।