হামে এখন শুধু শিশুরা নয়, অনেক বয়স্করাও আক্রান্ত হচ্ছেন। বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্র ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষতির আশঙ্কা কম হলেও গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
হামের বিস্তার ও টিকার অভাব
সময়মতো টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করায় হামের ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ। ব্যাপক হারে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। পাশাপাশি হামের ভাইরাসের ব্যাপক বিস্তার হওয়ায় প্রাপ্তবয়স্ক ও গর্ভবতী মায়েরা আক্রান্ত হচ্ছেন বলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সময়মতো শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হলে দেশব্যাপী ভাইরাসের বিস্তার ঘটত না। এতে শিশু আক্রান্ত ও মৃত্যু হতো না।
পরিসংখ্যান ও বর্তমান অবস্থা
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে সাত জন শিশুর মৃত্যু এবং সহস্রাধিক আক্রান্ত হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব আরো এক মাস পর্যন্ত চলতে পারে। তবে টিকার কার্যক্রম বর্তমান সরকার দ্রুত শুরু করায় হামে আক্রান্ত কমে আসছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৮৮১ জন শিশু। মোট হামে শনাক্ত হয়েছে ৭ হাজার ২৪ শিশু। সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে ৩২ হাজার ৮৭৭ শিশু। মৃত্যু হয়েছে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪২৪ জনের।
বয়স্ক ও গর্ভবতীদের জন্য ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এমিরেটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ জানান, প্রতিদিন প্রাইভেট চেম্বারে এবং তার অধীনে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্করা ভর্তি হচ্ছেন। তাদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি কম। আক্রান্ত বয়স্কদের মধ্যে মারা যাওয়ার তথ্য তিনি পান নাই। তার মতে, হাম ছোঁয়াচে রোগ এবং দ্রুত ছড়ায়। এ কারণে বয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। মাস্ক পরার পরামর্শ দেন। বাসায় কিংবা হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের সংস্পর্শে গেলে সেই প্রাপ্তবয়স্কদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে গর্ভবতী মা হামে আক্রান্ত হলে পেটের বাচ্চার ঝুঁকি বেশি। জন্মগত ত্রুটি, হার্টের সমস্যা ও বিকলাঙ্গ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। যে ঘরে কোনো শিশু কিংবা নিজের কোনো শিশুসন্তান হামে আক্রান্ত হচ্ছে সেই গর্ভবতী মাকে নিরাপদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরামর্শ দিয়েছেন।
চিকিৎসকদের মতামত
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল গাইনি বিভাগের প্রধান ও ভাইস প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. মুসাররাত সুলতানা সুমি বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি রয়েছে। তিনি তাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোসতাক হোসেন বলেন, ‘হামের প্রাদুর্ভাবে ভাইরাসের বিস্তার প্রসার ঘটায় প্রাপ্তবয়স্করা আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের মৃত্যু ঝুঁকি নেই বলে তিনি জানান। বড়দের জন্য হাম-রুবেলার টিকা বছরে একটা নিতে পারেন বলেও তিনি জানান। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘সময়মতো ৯ মাস ও ১৫ মাস পর্যন্ত শিশুদের টিকা না দেওয়ায় দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। পাঁচ বছর পর্যন্ত ৯৫ ভাগ শিশুকে টিকাদানে কর্মসূচির আওতায় আনার বিষয়টি দেশব্যাপী নিশ্চিত করতে পারলে ভাইরাসের বিচরণ ঘটবে না। প্রাপ্তবয়স্করা আক্রান্ত হবে না বলে জানান তিনি।



