সুনামগঞ্জে হাওরের ধান লুট, কৃষকরা দিশেহারা
সুনামগঞ্জে হাওরের ধান লুট, কৃষকরা দিশেহারা

সুনামগঞ্জে হাওরের পানি কিছুটা কমলেও নতুন করে বিপদে পড়েছেন কৃষকরা। তাদের কষ্টের ধান এবার লুটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। এ অবস্থায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার বরাম হাওরে অতিবৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া কৃষকদের বোরো ধান লুটের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ধান লুটের ঘটনা

গতকাল মঙ্গলবার বেলা প্রায় ১১টার দিকে হাওরের ভাঙ্গাডহর ও ডাইয়ারগাঁও গ্রামের কৃষকদের পানিতে ডুবে থাকা জমির ধান কেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে একদল দুর্বৃত্ত। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, প্রায় ৬০-৭০টি নৌকা নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে এই লুটপাট চালানো হয়। বরাম হাওরের পানি কমতে শুরু করলে দুর্বৃত্তরা এই সুযোগ নেয়। এতে হাওরপাড়ের কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় প্রতিনিধির প্রতিক্রিয়া

তাড়ল ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য বাবুল দাস বলেন, 'এই হাওরের ষোলআনা ধানের মধ্যে চৌদ্দ আনা ধান পানিতে ডুবে আছে। এখন কিছু লোক আমাদের হাওরের ধান লুট করে নিচ্ছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের অভিযান

ধান লুটের খবর পেয়ে দিরাই থানার এসআই মাসুদুল হক মাসুমের নেতৃত্বে পুলিশ হাওরে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা নৌকা নিয়ে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে দিরাই থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, তলিয়ে যাওয়া হাওরের ধান কেটে নিয়ে যেতে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কিছু লোক নৌকা নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা নিয়ে সংশয়

জলাবদ্ধতায় সিলেটের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নাম সরকারের সহায়তা তালিকায় উঠবে কি না তা নিয়ে কৃষকরা সংশয় প্রকাশ করেছেন। ইতিমধ্যে ক্ষতির তালিকায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তবে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তালিকা আবারও যাচাই-বাছাই হচ্ছে এবং চূড়ান্ত তালিকায় যাতে ক্ষতিগ্রস্ত কারো নাম বাদ না পড়ে সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জেলা প্রশাসকের বক্তব্য

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেছেন, হাওরে ক্ষতিগ্রস্তদের সঠিক তালিকা তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের নিখুঁত তালিকা তৈরি হবে। এতে কোনো দলীয় পরিচয় কিংবা কোনো রকম দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া যাবে না। নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদ এবং কৃষি বিভাগকে সরজমিনে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মতিউর রহমান জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্তের তালিকা চূড়ান্ত হয়নি। তারা প্রাথমিকভাবে ৯৮ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা পেয়েছিলেন। এখন সময় বাড়িয়ে তালিকা যাচাই-বাছাই এবং সংযুক্তি চলছে।