মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক মিডওয়াইফ দিবস উপলক্ষে জাতীয় উদযাপনে যোগ দিয়েছে ইউএনএফপিএ। এ বছরের প্রতিপাদ্য 'বিশ্বের আরও দশ লাখ মিডওয়াইফ প্রয়োজন' এর আলোকে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অগ্রগতি ও জরুরিতার চিত্র উঠে এসেছে। বর্তমানে দেশে ১১ হাজারের বেশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মিডওয়াইফ কর্মরত থাকলেও, সব ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেবা নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ২৫ হাজার মিডওয়াইফ প্রয়োজন। বাংলাদেশ সরকারের নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রতিশ্রুতি সারা দেশে মিডওয়াইফ মোতায়েন ত্বরান্বিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে।
ইউএনএফপিএ প্রতিনিধির বক্তব্য
অনুষ্ঠানে ইউএনএফপিএ-র বাংলাদেশ প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং মিডওয়াইফদের জীবন রক্ষা ও পরিবার সমর্থনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'সারা বাংলাদেশে আমি মিডওয়াইফদের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে কাজ করতে দেখেছি, প্রায়ই একা, সীমিত সম্পদ নিয়ে, কিন্তু একসঙ্গে দুটি প্রাণের দায়িত্ব বহন করে। আমাদের শুধু মিডওয়াইফের সংখ্যা বাড়াতে হবে না, বরং তাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও মর্যাদাপূর্ণ সেবা প্রদানের জন্য সমর্থন, সরঞ্জাম ও মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।'
জাতীয় মিডওয়াইফ পুরস্কার
অনুষ্ঠানের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জাতীয় মিডওয়াইফ পুরস্কার, যেখানে পাঁচজন অসাধারণ মিডওয়াইফকে মাতৃ ও নবজাতক মৃত্যুহার হ্রাসে তাদের নিষ্ঠার জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে দুরূহ এলাকায় সেবা প্রদান ও সেবা সম্প্রসারণে উদ্ভাবনী পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত ছিল। একইসঙ্গে পাঁচজন নবীন মিডওয়াইফকে ইয়াং মিডওয়াইভস লিডারশিপ প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা বাংলাদেশে মিডওয়াইফ পেশা ও মাতৃসেবা শক্তিশালী করার উদ্যোগ।
মিডওয়াইফদের প্রতি আহ্বান
ক্যাথরিন ব্রিন কামকং আরও বলেন, 'মিডওয়াইফরা নিরাপদ মাতৃত্ব ও প্রজনন অধিকারের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। আজ আমরা সেই মিডওয়াইফদের সম্মান জানাই যারা সম্প্রদায়ের নারীদের সেবা দিচ্ছেন এবং মর্যাদা, আশা নিয়ে আসছেন এবং একটি গ্রাম, সম্প্রদায় ও সমগ্র বাংলাদেশের গতিপথ পরিবর্তন করছেন। যখন আমরা মিডওয়াইফদের মধ্যে বিনিয়োগ করি, তখন আমরা স্বাস্থ্যকর পরিবার, শক্তিশালী সম্প্রদায় ও আরও স্থিতিস্থাপক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করি।'
ঢাকা নার্সিং কলেজে উদযাপন
মঙ্গলবার ঢাকা নার্সিং কলেজে আয়োজিত উদযাপনে সরকারি কর্মকর্তা, পেশাজীবী সংস্থা, উন্নয়ন অংশীদার ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মিডওয়াইফরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে একটি র্যালি অনুষ্ঠিত হয় যা বাংলাদেশের মিডওয়াইফ কর্মী বাহিনী শক্তিশালীকরণ এবং গর্ভাবস্থা ও প্রসবকালে কোনো নারী যাতে পিছিয়ে না পড়েন সে প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।



