অনেকেরই ছোটখাটো বিষয়ে রেগে যাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। ক্রিকেট খেলায় ক্যাচ মিস করলে বা রাস্তায় জ্যামে পড়লে কেউ কেউ প্রচণ্ড রেগে যান। এই রাগের পেছনে শুধু খারাপ মেজাজ নয়, বরং শরীর ও মস্তিষ্কের জটিল প্রক্রিয়া দায়ী। মনোবিজ্ঞানীরা রাগকে আইসবার্গের সঙ্গে তুলনা করেন, যেখানে উপরিভাগের রাগের নিচে লুকিয়ে থাকে ভয়, হতাশা, ব্যর্থতা বা লজ্জার মতো অনুভূতি।
রাগের মনস্তাত্ত্বিক কারণ
অনেক মানুষ অতিরিক্ত রাগ দেখায় কারণ তারা অস্বস্তিকর অনুভূতি সামলাতে পারে না। তারা চায় সবকিছু তাদের ইচ্ছামতো হোক, আর তা না হলে অন্যকে দোষ দিয়ে রাগ প্রকাশ করে। তবে সব রাগই নেতিবাচক নয়; কখনো কখনো ভুলের কারণে অন্যরা রেগে যায়, যা স্বাভাবিক।
মস্তিষ্কের ভূমিকা
মস্তিষ্কের অ্যামিগডালা অংশটি বিপদ বা অস্বস্তি বোধ করলে অ্যালার্ম বাজায়, যার ফলে অ্যাড্রেনালিন নিঃসৃত হয় এবং হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়। অন্যদিকে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। যারা সব সময় রেগে থাকে, তাদের অ্যামিগডালা এত দ্রুত সক্রিয় হয় যে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স কাজ করার সুযোগ পায় না।
শারীরিক কারণ
শুধু মানসিক নয়, শারীরিক কারণেও মানুষ খিটখিটে হতে পারে। হাইপারথাইরয়েডিজম, দীর্ঘমেয়াদি হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করার ওঠানামা এবং ডিমেনশিয়ার কারণে রাগের প্রবণতা বাড়ে। বয়স্কদের ক্ষেত্রে বিভ্রান্তি ও অসহায়ত্ব থেকেও রাগ দেখা দেয়।
শৈশবের প্রভাব
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শৈশবে মা-বাবার লালনপালনের ত্রুটি রাগের একটি বড় কারণ। শিশুদের আবেগ বুঝতে না শেখালে তারা বড় হয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে রেগে যায়। অতীতের মানসিক আঘাতও মানুষকে সবকিছুকে হুমকি হিসেবে দেখায় এবং রাগের আশ্রয় নেয়।
রাগের ক্ষতিকর প্রভাব
অতিরিক্ত রাগ রক্তচাপ বাড়ায়, হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়ায় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমায়। সম্পর্কও নষ্ট হয়। তবে রাগ কমানো সম্ভব। নিজের রাগের ট্রিগার চিহ্নিত করে এবং রাগ উঠলে গভীর শ্বাস নিয়ে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গুনলে প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স সক্রিয় হয় এবং পরিস্থিতি মোকাবিলা করা সহজ হয়।
সুতরাং, কারো অকারণে রাগ দেখলে তাকে বোঝার চেষ্টা করুন। তার মনের ভেতর হয়তো অনেক না বলা কষ্ট বা শারীরিক সমস্যা লুকিয়ে আছে।



