প্রজ্ঞা (নলেজ ফর প্রগ্রেস) এবং গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের (জিএইচএআই) সহযোগিতায় ২৩ এপ্রিল ঢাকায় সিনিয়র সাংবাদিকদের জন্য একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 'বাংলাদেশে অ-সংক্রামক রোগ মোকাবিলা: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের ভূমিকা' শীর্ষক এই কর্মশালায় বাংলাদেশে অ-সংক্রামক রোগের (এনসিডি) ক্রমবর্ধমান বোঝা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রভাব
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, চিনি, সোডিয়াম, স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স ফ্যাট সমৃদ্ধ প্যাকেটজাত খাবারের অত্যধিক গ্রহণ এনসিডির ক্রমবর্ধমান বোঝার অন্যতম প্রধান কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য উল্লেখ করে তারা জানান, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অ-সংক্রামক রোগের কারণে ঘটে।
প্রায় ৯৭ শতাংশ বাংলাদেশি নিয়মিত প্যাকেটজাত খাবার গ্রহণ করেন, কিন্তু প্যাকেজিংয়ের পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্য ভোক্তাদের জন্য প্রায়ই বোঝা কঠিন। ফলে অনেকে পুষ্টি উপাদান ও স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা ছাড়াই খাবার পছন্দ করেন।
ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিংয়ের সুপারিশ
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, বাধ্যতামূলক ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) ভোক্তাদের প্যাকেজের সামনে স্পষ্ট 'অতিরিক্ত' সতর্কীকরণ লেবেলের মাধ্যমে দ্রুত অস্বাস্থ্যকর পণ্য শনাক্ত করতে সহায়তা করবে। এটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য পছন্দকে উৎসাহিত করবে এবং খাদ্য উৎপাদকদের পণ্যের গঠন উন্নত করতে উদ্বুদ্ধ করবে।
তারা আরও উল্লেখ করেন, ৪৪টি দেশ ইতিমধ্যে ডব্লিউএইচও-প্রস্তাবিত কার্যকর 'বেস্ট-বাই' জনস্বাস্থ্য হস্তক্ষেপ হিসেবে এফওপিএল চালু করেছে, যার মধ্যে ১০টি দেশ এটি বাধ্যতামূলক করেছে।
স্বাস্থ্য বাজেট ও ওষুধ সরবরাহ
বক্তারা বলেন, এই খাতে বাজেট বরাদ্দ অপর্যাপ্ত, যা মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ। তারা উল্লেখ করেন, সব কমিউনিটি ক্লিনিকে নিরবচ্ছিন্নভাবে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় না। তারা টেকসই অর্থায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ সেবা জোরদার করতে হবে।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, মর্তুজা হায়দার লিটন, নাদিরা কিরণ, মিজান চৌধুরী ও এ বি এম জুবায়ের। প্রজ্ঞার প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল ও শাবনাম মোস্তফা থিম্যাটিক উপস্থাপনা করেন।



