সৌদিতে ৫৬ হাজারের বেশি হাজী চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন
সৌদিতে ৫৬ হাজারের বেশি হাজী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন

পবিত্র হজ পালনে সৌদি আরবে অবস্থানরত বাংলাদেশি হাজীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। চলতি হজ মৌসুমে এ পর্যন্ত সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে হাজীরা ৫২ হাজার ৩১২ বার চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। তীব্র গরম, দীর্ঘ পথচলা, অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম এবং বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে হাজীরা এই চিকিৎসাসেবা নেন।

প্রচণ্ড গরমে হাজীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি

এ বছর সৌদি আরবে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই হজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনেক সময় তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি থাকায় হিট এক্সেশন, পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা, সর্দি-কাশি ও অন্যান্য মৌসুমি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেক হাজী। বিশেষ করে বয়স্ক ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা হাজীদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি তুলনামূলক বেশি দেখা গেছে।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশ সরকারের হজ মেডিকেল টিম অত্যন্ত আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে হাজীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। আমাদের চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা দিনরাত হাজীদের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। প্রচণ্ড গরম ও শারীরিক পরিশ্রমের কারণে অনেক হাজী অসুস্থ হলেও দ্রুত চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহের মাধ্যমে তাদের সুস্থ রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও বলেন, গুরুতর অসুস্থ হাজীদের স্থানীয় সৌদি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং তাদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। হজের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মেডিকেল টিম মোতায়েন থাকায় জরুরি পরিস্থিতিও দ্রুত মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দেশে ফেরার কার্যক্রম

এদিকে পবিত্র হজ পালন শেষে বাংলাদেশি হাজীদের দেশে ফেরার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরেছেন ২৯ হাজার ৬৯৪ জন হাজী। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ৩ হাজার ৩২৮ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরেছেন ২৬ হাজার ৩৬৬ জন হাজী।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত মোট ৭১টি ফিরতি ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২৪টি ফ্লাইটে ৯ হাজার ৯৮১ জন হাজীকে দেশে পৌঁছে দিয়েছে। সৌদি এয়ারলাইন্স ২৮টি ফ্লাইটে পরিবহন করেছে ১১ হাজার ৩৩১ জন হাজী এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ১৯টি ফ্লাইটে দেশে ফিরিয়েছে ৭ হাজার ৭০০ জন হাজী। এছাড়া অন্যান্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে সৌদি আরব ত্যাগ করেছেন আরও ৬৮২ জন হাজী।

চিকিৎসাসেবা ও আইটি সহায়তা

চলতি হজ মৌসুমে বাংলাদেশ হজ মেডিকেল টিমের তত্ত্বাবধানে ব্যাপক চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়েছে। সৌদি আরবের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো থেকে এ পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৩১২টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৫ হাজার ৭১০টি সেবা দেওয়া হয়েছে, যা হাজীদের বিভিন্ন তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত তথ্যে জানা যায়, এ পর্যন্ত সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ২৬২ জন বাংলাদেশি হাজী। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ২৪ জন। বর্তমানে আন-নুর হাসপাতালে ৪ জন, কিং আব্দুল আজিজ হাসপাতাল (জাহের)-এ ১ জন, কিং ফয়সাল হাসপাতালে ২ জন, আবির গ্রুপের সৌদি ন্যাশনাল হাসপাতালে ৬ জন, হেরা জেনারেল হাসপাতালে ২ জন, মক্কা মেডিকেল সেন্টারে ৩ জন, কেয়ার মেডিকেলে ৩ জন, সৌদি জার্মান হাসপাতালে ২ জন এবং কিং আব্দুল্লাহ মেডিকেল সিটি হাসপাতালে ১ জন বাংলাদেশি হাজী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মৃত্যুর সংখ্যা

চলতি হজ মৌসুমে সৌদি আরবে সর্বমোট ৪৬ জন বাংলাদেশি হাজীর মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ এবং ১৬ জন মহিলা। এর মধ্যে মক্কায় ৩৫ জন এবং মদিনায় ১১ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। জেদ্দা, মিনা, আরাফা ও মুজদালিফায় কোনো বাংলাদেশি হাজীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।