খুলনা মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড: আইসিইউ রোগী নাসরিনের মৃত্যু, আহত ৫
খুলনা মেডিকেলে আগুন: আইসিইউ রোগীর মৃত্যু, আহত ৫

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার ভোরে হাসপাতালের পুরোনো আইসিইউ ইউনিটসংলগ্ন একটি স্টোররুমে আগুন লাগার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আইসিইউ থেকে রোগী সরানোর সময় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

নিহত ও আহতের বিবরণ

নিহত রোগীর নাম নাসরিন নাহার। তিনি খুলনার কয়রা উপজেলার নেছার আলীর মেয়ে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নাসরিন নাহার আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আগুন লাগার পর তাঁকে দ্রুত বাইরে নেওয়া হলে হাসপাতালের বারান্দায় তাঁর মৃত্যু হয়। একই আইসিইউতে থাকা শেখ আবুল হাসেম (৯৬) নামের দিঘলিয়া উপজেলার আরেক রোগী আগুন লাগার আগেই ভোর পাঁচটার দিকে মারা যান।

আগুন থেকে বাঁচতে গিয়ে দুই নার্সসহ পাঁচজন আহত হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান (৫০), সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ। তাঁদের মধ্যে দুই নার্সকে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আগুনের সূত্রপাত ও নিয়ন্ত্রণ

ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, আজ ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে হাসপাতালের চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় পুরোনো আইসিইউ ইউনিটের পাশের একটি স্টোররুমে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ দিলীপ কুমার বলেন, পুরোনো আইসিইউ ভবনের পাশের একটি কক্ষে আগুন লাগে। সেখানে পুরোনো কাপড় ও কিছু সরঞ্জাম রাখা ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর কয়েকটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ও পুরোনো এসি বিস্ফোরিত হয়। এতে দেয়ালের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুরো এলাকায় ঘন ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রোগী স্থানান্তর ও উদ্ধার অভিযান

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের ১ নম্বর আইসিইউতে থাকা ১৫ রোগীকে দ্রুত অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়। ধোঁয়া ও আতঙ্কের মধ্যে রোগী স্থানান্তরের সময় পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। দিলীপ কুমার প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধোঁয়ার মধ্যে আমরা রোগীদের স্থানান্তর করছিলাম। এ সময় আতঙ্কিত হয়ে নাসরিন নাহার নামের রোগীর স্বজনেরা তাঁকে নিজেরাই সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। বাইরে নেওয়ার পর সেই রোগী মারা যান। আইসিইউ থেকে রোগী স্থানান্তরের একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া আছে। ভেন্টিলেশন খুলে নিজেরা নেওয়ার চেষ্টার কারণে ওই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’

হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রেজাউল বলেন, ধোঁয়ার কারণে ইমারজেন্সি ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। মুমূর্ষু রোগীদের পেছনের দরজা দিয়ে বের করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা নার্সদের উদ্ধার করেন। একজন নার্সকে তিনতলা থেকে নামানোর সময় পড়ে যেতে দেখা যায়।

তদন্ত ও কারণ

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা হোসেন আলী বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শর্টসার্কিট বা এসি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মো. মাসুদ সরদার বলেন, সকাল ছয়টার দিকে আগুন লাগার খবর পেয়ে প্রথমে বয়রা স্টেশন থেকে তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে আরও ইউনিট যোগ দেয়। মোট ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে অংশ নেয়।