গাজীপুর সদর উপজেলায় বিরল শারীরিক জটিলতা নিয়ে জন্ম নেওয়া কন্যাশিশু হাবিবার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে। অস্ত্রোপচারের পর তার নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘জুবাইদা’। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি।
অস্ত্রোপচারের বিবরণ
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের শিশু হাসপাতালে শিশুটির অস্ত্রোপচার করা হয়। জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) সহায়তায় এ অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় ডা. জুবাইদা রহমানের নামের সঙ্গে মিল রেখে শিশুটির নাম ‘জুবাইদা’ রেখেছে তার মা দিলরুবা আক্তার।
জন্মগত জটিলতা
জানা যায়, জন্মগতভাবে শিশুটির দুই মাড়ি ও চোয়াল একসঙ্গে যুক্ত ছিল। এ কারণে সে মুখ খুলতে কিংবা স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করতে পারত না। বিরল এ জটিলতায় জন্মের পর থেকেই কষ্টে ছিল শিশুটি। একই সঙ্গে ব্যয়বহুল চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে পরিবার। গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর শিশুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসে জেডআরএফ।
চিকিৎসা কার্যক্রম
মঙ্গলবার সকালে শিশু হাসপাতালে প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। জেডআরএফের পরিচালক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহর নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল অস্ত্রোপচার পরিচালনা করেন। পুরো চিকিৎসা কার্যক্রম সমন্বয় করেন জেডআরএফের সদস্য ডা. এম আর হাসান। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, শিশুটিকে পুরোপুরি সুস্থ করতে আরও কয়েকটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হবে। তবে প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার সফল হওয়ায় সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে বলে আশা করছেন তারা।
পরিবারের অবস্থা
হাবিবার বাড়ি গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়াল মির্জাপুর ইউনিয়নের বি-কে বাড়ি এলাকায়। গত এপ্রিলে হাবিবুর রহমান ও দিলরুবা আক্তারের ঘরে তার জন্ম হয়। বিয়ের এক বছর পর প্রথম সন্তানের আগমনে পরিবারে আনন্দ এলেও জন্মের পরপরই ধরা পড়ে তার শারীরিক জটিলতা। শিশুটির মা এতদিন সিরিঞ্জের মাধ্যমে নাকের নল দিয়ে তাকে বুকের দুধ খাওয়াতেন। পরিবারটির ভাষ্য, শিশুটির চিকিৎসা নিয়ে তারা চরম অসহায় অবস্থায় ছিলেন।



