খেলতে গিয়ে নিখোঁজ শিশু হুমায়রা, ২১ ঘণ্টা পর মিলল লাশ
খেলতে গিয়ে নিখোঁজ শিশু হুমায়রা, ২১ ঘণ্টা পর লাশ উদ্ধার

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার ২১ ঘণ্টা পর চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিশুটির বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্ত অভিযোগ করেছেন, তাঁর মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে বিষ খাইয়ে হত্যা করা হয়েছে।

নিখোঁজের ঘটনা

শুক্রবার সন্ধ্যার আগে বাড়ির বাইরে অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলতে যায় হুমায়রা। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামলেও সে বাড়িতে না ফেরায় মা তোষী খাতুন মেয়ের খোঁজ শুরু করেন। খবর দেওয়া হয় বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্তকে, যিনি কানপাড়া বাজারে একটি ওষুধের দোকান চালান। খবর পেয়ে তিনি ছুটে যান বাড়িতে। সারারাত খোঁজাখুঁজি করেও হুমায়রার সন্ধান না পেয়ে পরিবার পুলিশে খবর দেয়।

লাশ উদ্ধার

নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির নিকটবর্তী একটি খেজুরগাছের নিচ থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে শুক্রবার রাতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রতিবেশীরা পুকুর, ডোবা ও জঙ্গলে খোঁজাখুঁজি করে। শনিবার সকালেও হুমায়রাকে না পেয়ে তার বাবা ফেসবুকে মেয়ের ছবি দিয়ে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাড়ির পেছনের খেজুরগাছের নিচে মিলে যায় তার লাশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা

দুর্গাপুর থানার ওসি পঞ্চানন্দ সরকার জানান, নিখোঁজের ২০-২১ ঘণ্টা পর শিশুটির লাশ বাড়ির ২০ গজ দূরে খেজুরগাছের নিচে পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অন্য কোথাও হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে গেছে হত্যাকারীরা। কারণ নিখোঁজের পর ওই এলাকায় খোঁজাখুঁজি করা হয়েছিল, তখন লাশ পাওয়া যায়নি। পরে রোববার দুপুরের পর কেউ লাশ ফেলে রেখে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ময়নাতদন্তের ফল

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুটির শরীরে ছোটখাটো আঘাতের চিহ্ন, পেট ফোলা ও বাম হাতে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। মৃত্যু অস্বাভাবিক কারণেই ঘটেছে। ময়নাতদন্তের সময় ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংরক্ষণ করা হয়েছে। বিষ খাইয়ে হত্যা করা হলে তা শনাক্ত হবে।

বাবার অভিযোগ

হাসিবুল ইসলাম শান্ত বলেন, 'কোনো খাবারের লোভ দেখিয়ে আমার মেয়েকে বিষ খাইয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি যখন তার নিথর দেহ বুকে নিয়েছিলাম, তখন মুখে বিষের গন্ধ পেয়েছি। শরীরে আঘাতের চিহ্নও রয়েছে। এলাকার কারো সঙ্গে আমার বা পরিবারের কোনো শত্রুতা নেই। কেন আমার অবুঝ মেয়েকে কেড়ে নেওয়া হলো?'

এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

রোববার বিকাল ৩টায় শিশুটির লাশ এলাকায় পৌঁছালে এলাকাবাসী লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স আটকে বিক্ষোভ করেন। তারা হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান এবং গ্রেফতারের আগে লাশ দাফন করতে দেবেন না বলে পুলিশকে জানান। পরে ওসি পঞ্চানন্দ সরকার বিক্ষুব্ধ লোকজনকে বুঝিয়ে শান্ত করেন এবং হত্যাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতারের অঙ্গীকার করলে লাশ নামানো হয়।

সমাহিতকরণ

রোববার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকাল সাড়ে ৫টায় শিশু হুমায়রার জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে সমাহিত করা হয়। পুলিশ হত্যারহস্য উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।