গাজীপুরে হামে আক্রান্ত এক পরিবারের ৩ শিশু, টিকা নেয়ার বয়স হয়নি ২ জনের
গাজীপুরে হামে আক্রান্ত এক পরিবারের ৩ শিশু

গাজীপুরের কালীগঞ্জের উলূখোলায় অবস্থিত ডিভাইন মার্সি হাসপাতালে একই পরিবারের তিন শিশু হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছে। এদের মধ্যে দুইজনের বয়স হামের টিকা নেওয়ার জন্য নির্ধারিত নয় মাস পূর্ণ হয়নি। গত সাত দিনের ব্যবধানে পরিবারটির ১০ মাস বয়সী ইরহাম, তিন মাস বয়সী আরিয়ান এবং নয় মাস বয়সী আনাস হামে আক্রান্ত হয়।

পরিবারের বক্তব্য

আক্রান্ত শিশুদের পরিবারের সদস্য আব্দুল আউয়াল জানান, তারা তিন ভাইয়ের যৌথ পরিবার। প্রথমে ইরহাম, পরে আরিয়ান এবং সর্বশেষ আনাস আক্রান্ত হয়। তারা প্রথমে বুঝতে পারেননি, পরে হাসপাতালে এলে হাম ধরা পড়ে। বর্তমানে শিশুরা সুস্থ হয়ে উঠেছে এবং আজই তাদের ছাড়পত্র দেওয়া হবে।

আরিয়ানের মা বলেন, তার সন্তানের বয়স নয় মাস, টিকা দেওয়ার আগেই জ্বর হয় এবং পরে হাম শনাক্ত হয়। কয়েকদিন চিকিৎসার পর এখন সুস্থ। তিনি সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হাসপাতালের পরিস্থিতি

হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ আফরোজা পারভীন বলেন, হামের রোগী বাড়লেও আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সচেতনতা ও ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলা জরুরি। শিশু বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সুলতানা নার্গিস বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ায় হাসপাতালে অসংখ্য রোগী ভর্তি রয়েছে, যার মধ্যে ওই পরিবারের তিন শিশুও আছে। তিনি সচেতনতার অভাবকে একই পরিবারে একাধিক আক্রান্তের কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন।

চিকিৎসকদের মতামত

ডা. নার্গিস ব্যাখ্যা করেন, জন্মের সময় শিশু মায়ের কাছ থেকে কিছু অ্যান্টিবডি পায় যা ছয় মাস পর্যন্ত সুরক্ষা দেয়। হামের টিকা দেওয়া হয় নয় মাসে, ফলে এই দুই-তিন মাসের ব্যবধানে শিশুর রক্তে কোনো অ্যান্টিবডি থাকে না, তাই এই সময় হাম বেশি হয়।

হাসপাতালের সিইও ড. আহমেদ শফিকুল হায়দার বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী কয়েক শ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলদের টিকার গুরুত্ব না বোঝা এবং ইউনিসেফের নির্দেশনা না মানার জন্য এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এদিকে, হাসপাতালে আরও ২০ জন শিশু হামে ভর্তি রয়েছে, যাদের মধ্যে তিন মাস বয়সী শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও আছে।