টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক শিশুকে হামের টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের টিকা দেওয়ার ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (২৪ এপ্রিল) এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা একটি রিট পিটিশনের শুনানি করে এ আদেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনা
আদালত শিশুটির যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিতে সরকারকে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পর্যবেক্ষণে আদালত জানতে চেয়েছেন, কেন শিশুটির পরিবারকে ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মামলার বিবরণ
আইন ও লাইফ ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের পক্ষে রিটটি দায়ের করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। রিটে বলা হয়, বুধবার দুপুরে মোছা. মও খাতুন তার এক মাস পাঁচ দিনের শিশু ফাতিহাকে হামের টিকা দিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যান। সেখানে ডিউটিতে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কায়ুম হামের টিকার পরিবর্তে র্যাবিভ্যাক্স জলাতঙ্ক টিকার দুটি ডোজ দেন।
ঘটনার পরিণতি
এর পরপরই শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। আত্মীয়দের প্রতিবাদের পর ঘটনাটি জানাজানি হয়। এ সময় কেন্দ্রে উপস্থিত অন্য শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, মোহাম্মদ কায়ুম অবসরে যাওয়ার পর সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরু দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও তিনি অনুপস্থিত থাকায় কায়ুম টিকাদান কার্যক্রম চালিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ
শিশুটির পরিবার অভিযোগ করে, তারা প্রতিবাদ করলে কায়ুম ও নুরু ইসলাম অসদাচরণ করেন। তারা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের অবহেলার অভিযোগ এনে দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন। কায়ুম বলেন, হামের টিকার বদলে ভুলবশত জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া হয়েছে এবং এটি অনিচ্ছাকৃত ভুল। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করে জানান, কায়ুম অবসরে গেলেও টিকাদান কর্মসূচিতে সহায়তার জন্য তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল।



