হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হঠাৎ ঘটে জীবনে। কিন্তু এর ঝুঁকি ধীরে ধীরে তৈরি হয়, যা আমরা জানতেও পারি না। অনেক সময় কোনো উপসর্গ ছাড়াই আপাত সুস্থ একজন মানুষের আকস্মিক হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক হয়, অথচ নীরবেই তার শরীরে বাসা বাঁধছিল ঝুঁকিগুলো। তাই চিকিৎসকেরা বলেন, হার্ট ভালো আছে কি না জানতে চাইলে পাঁচটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।
রক্তচাপ
রক্তচাপ হৃদরোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিগুলোর একটি। স্বাভাবিক রক্তচাপ সাধারণত ১২০/৮০ মিমি পারদ হলে ভালো। ১৮ বছর বয়স পার হওয়ার পর অন্তত বছরে একবার রক্তচাপ মাপা উচিত। পরিবারে উচ্চ রক্তচাপের ইতিহাস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপানের অভ্যাস থাকলে ছয় মাস পরপর পরীক্ষা করানো ভালো। ৪০ বছরের পর অনেকের অজান্তেই উচ্চ রক্তচাপ দেখা দেয়, তাই নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জরুরি।
রক্তের শর্করা
ডায়াবেটিস এখন তরুণদের মধ্যেও দ্রুত বাড়ছে। রক্তে অতিরিক্ত চিনি ধীরে ধীরে রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। ২৫ বছর বয়সের পর দুই থেকে তিন বছর পরপর রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা উচিত। স্থূলতা, পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস বা অলস জীবনযাপনের অভ্যাস থাকলে বছরে একবার পরীক্ষা করা ভালো। ৪০ বছরের পর বছরে অন্তত একবার পরীক্ষা করা উচিত।
ট্রাইগ্লিসারাইড
রক্তের চর্বি ট্রাইগ্লিসারাইড অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মিষ্টি, কোমল পানীয় এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে বাড়ে। ৩০ বছর বয়স পার হলে তিন থেকে পাঁচ বছর পরপর লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করা উচিত। অতিরিক্ত ওজন, ডায়াবেটিস বা ধূমপানের অভ্যাস থাকলে বছরে একবার পরীক্ষা করা ভালো। রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড ১৫০ mg/dL-এর নিচে থাকলে নিরাপদ ধরা হয়।
এলডিএল
এলডিএলকে বলা হয় 'খারাপ কোলেস্টেরল'। এটি ধমনির ভেতরে চর্বি জমিয়ে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত করে। ২০ বছর বয়সের পর অন্তত একবার লিপিড প্রোফাইল করা উচিত। ফল স্বাভাবিক হলে চার থেকে ছয় বছর পরপর পরীক্ষা করানো যথেষ্ট। তবে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান বা পারিবারিক হৃদরোগের ইতিহাস থাকলে আরও ঘন ঘন পরীক্ষা দরকার।
পেটের মাপ
অনেকে শুধু ওজনটাই পরিমাপ করেন, কিন্তু পেটের মাপ আরও গুরুত্বপূর্ণ। পেটের চর্বি হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের বড় ঝুঁকি। পুরুষদের পেটের মাপ ৯০ সেন্টিমিটারের নিচে এবং নারীদের ৮০ সেন্টিমিটারের নিচে রাখা ভালো।



