গ্রীষ্মের পাঁচটি ফলের পুষ্টিগুণ ও সতর্কতা
গ্রীষ্মের পাঁচটি ফলের পুষ্টিগুণ ও সতর্কতা

গ্রীষ্মকাল মানেই রসালো ফলের সমারোহ। তরমুজ, জাম, বাঙ্গি, তালশাঁস—এই ফলগুলো শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য। চলুন জেনে নেওয়া যাক এসব ফলের বিস্তারিত পুষ্টিমান, স্বাস্থ্য উপকারিতা ও সাবধানতা।

তরমুজ

তরমুজের প্রায় ৯২ শতাংশই জলীয় অংশ। এতে ৬-৭ শতাংশ শর্করা এবং সামান্য প্রোটিন থাকে। প্রতি ১০০ গ্রাম তরমুজে ২২-২৫ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এটি ফাইবার বা আঁশের একটি চমৎকার উৎস।

তরমুজ রক্তের খারাপ চর্বি বা এলডিএল কমিয়ে হৃদযন্ত্রের সুরক্ষা নিশ্চিত করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও এটি কার্যকর। গবেষণায় দেখা গেছে, তরমুজ প্রোস্টেট ক্যানসার, কোলন ক্যানসার ও ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তরমুজে বিটাক্যারোটিন প্রচুর পরিমাণে থাকে, যা ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ত্বকের সুস্থতা নিশ্চিত করে। এতে থাকা কোলিন শিশুর মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি একটি শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে।

সতর্কতা: শিশুদের বেশি তরমুজ খাওয়ালে পেট খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অতিরিক্ত পটাশিয়াম থাকায় কিডনির রোগীদের তরমুজ না খাওয়াই ভালো।

জাম

জামের প্রায় ৮২ শতাংশ পানি। প্রতি ১০০ গ্রাম জামে প্রায় ৫০ কিলোক্যালরি শক্তি ও প্রায় ১০ শতাংশ শর্করা থাকে। এতে যথেষ্ট পরিমাণে আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, ভিটামিন বি, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম পাওয়া যায়।

জাম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। এটি হজমশক্তি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। আয়রন, ভিটামিন সি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এই ফল ত্বক উজ্জ্বল করে, হিমোগ্লোবিন বাড়ায় ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে।

জামের অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে ও ধমনিগুলোকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সতর্কতা: খালি পেটে জাম খাওয়া একদমই উচিত নয়। সবসময় পাকা জাম খেতে হবে। থ্যালাসেমিয়া ও কিডনির রোগীরা জাম খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

বাঙ্গি

বাঙ্গির প্রায় ৯০ শতাংশই জলীয় অংশ। ১০০ গ্রাম বাঙ্গিতে মাত্র ১৫-১৮ কিলোক্যালরি শক্তি থাকে। এতে ভিটামিন এ, সি, পটাশিয়াম, ফলিক অ্যাসিড এবং প্রচুর আঁশ রয়েছে।

বাঙ্গির উপাদানগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে।

সতর্কতা: বাঙ্গিতে চিনি বা গুড় মেশালে এর পরিপূর্ণ পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হবেন। পটাশিয়াম বেশি থাকায় কিডনির সমস্যা থাকলে অল্প পরিমাণে খাবেন।

তালশাঁস

তালশাঁসে ৮০-৯০ শতাংশ জলীয় অংশ থাকে। শর্করার পরিমাণ ৮-১৫ শতাংশ। ১০০ গ্রাম তালশাঁসে ৩০-৫০ কিলোক্যালরি শক্তি পাওয়া যায়। এটি আয়রন, ফসফরাস, ভিটামিন এ ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের ভালো উৎস।

তালশাঁসের ফাইবার শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা সোডিয়াম ও পটাশিয়াম শরীরের ইলেকট্রোলাইট পূরণ করে। উচ্চ ফাইবার কোলন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। লিভারের সুরক্ষায় তালশাঁস কার্যকর। এর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস দাঁত ও হাড়ের গঠন শক্তিশালী করে।

সতর্কতা: অতিরিক্ত তালশাঁস পেটের পীড়ার কারণ হতে পারে। কিডনির সমস্যা থাকলে পটাশিয়াম বেড়ে যেতে পারে।

মো. ইকবাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ পুষ্টি কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল।