পর্যাপ্ত ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করে না, হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায়ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে কেবল ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানোই যথেষ্ট নয়; ঘুমের সময় নিয়মিত না হওয়া, রাতে দেরি করে ঘুমানো এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম বা বেশি ঘুমানো হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকসহ নানা হৃদরোগের ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুস্থ হৃদযন্ত্রের জন্য ঘুমের সময়সূচিতে অনিয়ম বা ‘স্লিপ ইরেগুলারিটি’ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ঘুমের সময় অনিয়ম কেন ক্ষতিকর?
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং পর্যাপ্ত গভীর ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। অনেকেই মনে করেন, দিনে ৬-৮ ঘণ্টা ঘুমালেই যথেষ্ট, কিন্তু ঘুমের দৈর্ঘ্য ঠিক থাকলেও সময়ের অনিয়ম শরীরে প্রদাহ, ক্লান্তি ও উচ্চ রক্তচাপের কারণ হতে পারে। ঘুমের নির্দিষ্ট সময় না থাকা মানে শরীরের ওপর অত্যাচার করার মতো। কারণ এতে শরীরের সার্কাডিয়ান রিদম বা প্রাকৃতিক জৈবঘড়ির ভারসাম্য নষ্ট হয়। এই জৈবঘড়ি হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ ও হরমোন ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে। এর ভারসাম্য নষ্ট হলে হৃদযন্ত্রের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে।
কীভাবে অনিয়মিত ঘুম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়?
অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি শরীরে কর্টিসল বা স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বাড়ায়। রাতে রক্তচাপ স্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ার কথা, কিন্তু ঘুমের সময় বদলালে তা বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে হার্ট ও রক্তনালির ওপর চাপ বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এ অভ্যাস হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
ঘুমের সময় নির্দিষ্ট করার উপায়
নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলতে নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করতে পারেন:
- ঘুমের সময় নির্ধারণ: নিজের কাজের ভিত্তিতে কখন ঘুমাতে যাবেন এবং কখন উঠবেন তা স্পষ্টভাবে ঠিক করুন।
- অভ্যাস গঠন: ঘুমানোর জন্য রিমাইন্ডার সেট করুন। ফোন বা অ্যালার্ম বাজলে যেকোনো কাজ ফেলে বিছানায় যান। ঘুম না এলেও বিশ্রামের পরিবেশ তৈরি করুন।
- স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন: ঘুমানোর ৩০ মিনিট আগে ফোন, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন। ব্লু-লাইট মেলাটোনিন উৎপাদনে বাধা দেয়, যা ঘুমের জন্য জরুরি।
- ক্যাফিন কমান: সন্ধ্যার পর ক্যাফিনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলুন। এতে ঘুমের সময় এগিয়ে আসবে এবং ঘুমের গুণগত মান বাড়বে।
ঘুমের অনিয়ম একটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর প্রভাব হৃদযন্ত্রের জন্য মারাত্মক হতে পারে। তাই আজ থেকেই ঘুমের সময়সূচি ঠিক করে নিন এবং সুস্থ জীবনযাপন করুন।



